টিডিএন বাংলা ডেস্ক: কিছুদিন আগে হায়দরাবাদের শাদনগরে ২৬ বছর বয়সী পশুচিকিৎসক প্রিয়াঙ্কা রেড্ডিকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে পুরোদেশ তোলপাড় হয়। ধর্ষকদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানান নির্ভয়ার মা আশা দেবীও। আমার মনের ক্ষতে কিছুটা মলম পড়ল, হায়দ্রাবাদ পশু চিকিত্‍‌সক ধর্ষণ-খুনে চার অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যু এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানালেন নির্ভয়ার মা আশা দেবী।

যেখানে নিগৃহীতার গায়ে পেট্রল ঢেলে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেখানে ঘটনার পূনর্নির্মাণের জন্য শুক্রবার ভোররাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল চার অভিযুক্তকে। পুলিশ জানিয়েছে, তখনই পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। তখনই শুরু হয় এনকাউন্টার। পুলিশের গুলিয়ে মৃত্যু হয় চার অভিযুক্তেরই।

২০১২ সালে নৃশংস ধর্ষণের পর মৃত নির্ভয়ার মা আশা দেবী এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘অন্তত একজন কন্যা সুবিচার পেল। আমি পুলিশকে ধন্যবাদ জানাব। অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে আমি ৭ বছর ধরে চিত্‍‌কার করে যাচ্ছি। বলছি, প্রয়োজনে সমাজের স্বার্থে আইন ভাঙুন। এখনও আদালতে চক্কর কেটে যাচ্ছি। আবারও একটা ১৩ ডিসেম্বর আসছে। আবার আদালতে যেতে হবে।’

হায়দরাবাদের নিহত পশু চিকিত্‍‌সকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আশা দেবী বলেছেন, ‘তাঁর বাবা-মা নিশ্চয়ই খুব স্বস্তি পেয়েছে। তাঁদের কন্যা সুবিচার পেল। এমন নৃশংস ঘটনার অপরাধীদের মধ্যে এ বার কিছুটা হলেও ভয় জন্মাবে।’

পুলিশের শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত মহম্মদ পাশা(২৬), জল্লু শিবা (২০), জল্লু নবীন (২০) ও চিন্তাকুন্তা চেন্নাকেশাভুলুর (২০) এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে দিল্লির চলন্ত গাড়িতে নির্মমভাবে গণধর্ষণের শিকার হতে হয়েছিল ডাক্তারির পড়ুয়াকে। প্যারামেডিক্যালের পড়ুয়া নির্ভয়াকে ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যরাতে চলন্ত গাড়িতে ছয়জন মিলে ধর্ষণ করে। পৈশাচিক অত্যাচারের পর তাঁকে বাস থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়। তাঁকে দিল্লি থেকে বিমানে করে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়েছিল। আপ্রাণ লড়াইয়ের পর ২৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, ২০১২ সালে নির্ভয়া গণধর্ষণের এক সাজাপ্রাপ্ত আসামী ক্ষমা প্রার্থনা চেয়ে দিল্লি সরকারকে আবেদন করে। কিন্তু সরকার তার আবেদন খারিজ করে দেয়। আশা দেবী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তিনি আশাবাদী যে দোষীদের শীঘ্রই ফাঁসির সাজা হবে।