টিডিএন বাংলা ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদি আমলে ডেমোক্রেসি ইনডেক্সে ভারত একধাপে ১০ নম্বর নেমে এসেছে। ১৬৫ টি দেশের মধ্যে ৫১ তম স্থানে ভারত। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ধ্বংস করে বিভাজনের রাজনীতি করছে নরেন্দ্র মোদি, এভাবেই তোপ দেগেছে দ্য ইকোনমিস্ট। “অসহিষ্ণু ভারত” বলে নিজেদের নতুন প্রচ্ছদ তৈরি করে সিএএ বা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসি নিয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে তারা। পাশাপাশি দ্য ইকোনমিস্ট বলেছে, “বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসাবে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে”।

২০১৯ সালের ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ডেমোক্রেসি ইনডেক্সে ভারতকে মোট ১৬৫ টি দেশের মধ্যে ৫১ তম স্থানে রাখা হয়েছে, ১০ নম্বরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্কোর ৬.৯ পেয়েছে এই দেশ। দ্য ইকোনমিস্ট গ্রুপের গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভাগ এই পতনকে “গণতন্ত্রের উপর নাগরিক স্বাধীনতার অবক্ষয়” বলে চিহ্নিত করেছেন।

দ্য ইকোনমিস্ট-এ প্রকাশিত নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়েছে যে বিভাজন তৈরির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং বিজেপি রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) প্রচ্ছদটি টুইট করে লিখেছে: “জানুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর দল কীভাবে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে বিপন্ন করছে।”

৮০ এর দশকে রাম মন্দিরের আন্দোলনের মাধ্যমে বিজেপির উত্থানকে চিহ্নিত করে প্রবন্ধটি যুক্তি দেখিয়েছে যে “নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি ধর্মীয় রাজনীতি করে বিভেদ সৃষ্টি করে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে”।

বৃহস্পতিবার নিজেদের সাম্প্রতিক সংস্করণের কভার ছবি টুইটারে পোস্ট করে ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ লেখে, ‘বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর দল বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই ভাগাভাগির দ্বারা মোদি এবং বিজেপি রাজনৈতিকভাবে সাফল্য পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। কেননা ধর্মের ভিত্তিতেই নাগরিকদের ভাগাভাগি করা হচ্ছে।

দ্য ইকোনমিস্টের ব্যাখ্যা, ‘অর্থনৈতিক ঝিমুনি, বেকারত্ব সমস্যা ইত্যাদি ইস্যু থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই বিভাজন–মূলক নীতি গ্রহণ করছে মোদি সরকার।’

ভারতে বসবাসকারী ২০ কোটি মুসলিম ভয় পাচ্ছে যে প্রধানমন্ত্রী দেশকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে চাইছেন। ‘নরেন্দ্র মোদি পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রকে ভাগ করতে চাইছেন’ নামক শিরোনাম সহ প্রবন্ধটি লেখা হয়েছে এই ম্যাগাজিনে।

পাশাপাশি, পত্রিকাতে লেখা হয়, গান্ধীজির ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাইছে মোদি সরকার। স্বাভাবিকভাবেই বিদেশি ম্যাগাজিনের কটাক্ষ হজম করতে পারেনি বিজেপি। দ্য ইকোনমিস্টকে ‘‌ঔপনিবেশিক মানসিকতা সম্পন্ন’‌ বলে মন্তব্য করে বিজেপি।