টিডিএন বাংলা ডেস্ক: মুলায়ম সিং যাদবই দলিতদের আসল নেতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মতো তিনি ভুয়ো নেতা নন। শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরিতে মহাজোটের এক নির্বাচনী সভায় ‘নেতাজি’ মুলায়ম সিংয়ের এভাবেই তারিফ করলেন বসপা নেত্রী মায়াবতী। বলাবাহুল্য, সুদীর্ঘ ২৪ বছরের তিক্ততার অবসান ঘটিয়ে এদিনই প্রথম এক মঞ্চে ওঠেন মুলায়ম সিং যাদব ও মায়াবতী। আর সেই মঞ্চে ওঠাই তৈরি করল ইতিহাস।

একসময়ের দুই কট্টর বিরোধী আজ কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে সরাতে একজোট হয়েছেন। এদিন উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরি কেন্দ্রে জনসভা করেন দুই শীর্ষ নেতা। এই কেন্দ্র থেকেই মুলায়ম প্রার্থী হয়েছেন। বিশাল জনসভায় মুলায়ম বলেন, আজ মায়াবতী এসেছেন। আমি তাঁকে স্বাগত জানাচ্ছি। মঞ্চে মায়াবতীকে সম্মান জানাতে দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন  মুলায়ম সিং যাদব। বলেন, যখনই প্রয়োজন হয়েছে মায়াবতী আমাদের সঙ্গ দিয়েছেন। আমি খুশি যে তিনি আমার সমর্থনে এসেছেন। মায়াবতী মঞ্চে আসতেই মুলায়ম সিং সপার কর্মীদের বলেন, মায়াবতীকে স্বাগত জানাতে, তার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে। তারপর মুলায়ম সিং বলেন, আমরা মায়াবতীজিকে স্বাগত জানাই। আমি সবসময় মায়াবতীজিকে সম্মান-শ্রদ্ধা করি। আর মুলায়মের এই কথা করতালিতে ফেটে পড়ে মৈনপুরি লোকসভা কেন্দ্র।

অন্যদিকে মায়াবতী বলেছেন, কোনও সন্দেহ নেই, মুলায়ম সিং সপা দলের মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশের সমস্ত জাতি ও সমাজের জন্য কাজ করছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মতো ভুয়ো পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষ নন। মুলায়মজি শুরু থেকেই পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষদের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন। কেন সপা-র সঙ্গে জোট বেঁধেছেন, সেই প্রসঙ্গে মায়াবতী বলেন, দেশের ও জনহিতে কখনও কখনও এমন পরিস্থিতি আসে যখন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বর্তমান সময় দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আর সেই জন্যই সপা-র সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একইমঞ্চে এদিন হাজির হন সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টির শীর্ষ নেতারা। পাশাপাশি বসে থাকতে দেখা যায় মায়াবতী ও মুলায়মকে। ছিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সহ শীর্ষ নেতৃত্ব।

এতদিন তারা ছিলেন চিরশত্রু। কিন্তু বিজেপিকে হারাতে হাত মেলাতে হয়েছে দুজনকে। তারপর প্রথমবার প্রকাশ্যে উপস্থিত মায়াবতী ও মুলায়ম একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাকে সকলের সামনে তুলে ধরতে চাইলেন। মুলায়ম তো কর্মীদের নির্দেশও দিলেন যে মায়াবতীকে সবসময় শ্রদ্ধা করার জন্য।

Advertisement
mamunschool