টিডিএন বাংলা ডেস্ক :  হেড কনস্টেবল নাসির আহমেদ। অনেক স্বপ্ন বুকে নিয়ে যোগ দিয়েছিলেন সেনাবাহিনীতে। দেশের জন্য কিছু করার অদম্য ইচ্ছা। সেই নাসিরই ফিরলেন তাঁর নিজের জেলা রাজৌরিতে কফিনবন্দি হয়ে। এ কেমন ফেরা? বুঝতে পাচ্ছেন না তাঁর স্ত্রী। দেশের জন্য প্রাণ দিতে কোনোদিনই পিছুপা ছিলেন না নাসির। কিন্তু শেষপর্যন্ত জঙ্গিদের হাতে প্রাণ গেল! মানতে পাচ্ছে না তাঁর পরিবার। `আল্লা এ কেমন বিচার?’ কণ্ঠরুদ্ধ নাসিরের স্ত্রীর।

ভাইয়ের কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন দাদা। কথা আটকে আসছে। তারই মধ্যে বললেন নাসির প্রকৃত ভারতীয়। এলাকায় তিনি বড় প্রিয় ছিলেন। তাই তাঁর শেষযাত্রায় পা মেলাল রাজৌরি।

বৃহস্পতিবার পুলওয়ামার জঙ্গি হামলা কেড়ে নিয়ে এতগুলি তাজা প্রাণ। নাসির তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ডেপুটি কমিশনার এমএ আশাদ, এসএসপি যুগল মানস ও অন্যান্য সিনিয়র আধিকারিকরা গতকাল তাঁর বাড়ি যান। তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।

ডিআইজি, সিআরপিএফ নীতু ভট্টাচার্য জানালেন, শহীদের দেহ প্রথমে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হবে, তারপর সেখান থেকে দেহ নিয়ে যাওয়া হবে রাজৌরিতে তাঁর নিজের এলাকায়। শেষপর্যন্ত তেমনটাই হল।

শহিদ জওয়ানের ভাই শিরাজ-উদ-দিন বলেন, সরকারের উচিত এই অসহায় পরিবারের জন্য কিছু করা। কারণ নাসিরই পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন। তাঁর ২টি সন্তানের যেন ব্যবস্থা করে সরকার।  শিরাজ বলেন, আমি ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় বাবা-মাকে হারিয়েছি। তারপর ছোট ভাই নাসিরকে বড় করেছি। নাসির প্রকৃত ভারতীয়। ও সবসময় চাইত নিরাপত্তা বাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের জন্য কিছু করতে।

নাসির আহমেদের পরিবারে আছেন তাঁর স্ত্রী সাজিয়া কৌসের, এছাড়া ২ ছেলে কাসিফ ও ফালাক।

সদ্য বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা এদের চোখে মুখে। নাসিরের পরিবারে যে অপূরণীয় ক্ষতি হল, তা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়। হয়ত সরকারি সাহায্য আসবে, অনুকম্পার জোয়ার আসবে, কিন্তু আর ফিরে আসবেন না নাসির আহমেদ।