আসামের লোকের অভিযোগ, ৬ মার্চ নিখিল ভারত বাঙালি উদ্বাস্তু সমন্বয় সমিতির নেতা ডাঃ সুবোধ বিশ্বাসের ডাকে শীলপথরে সভা হয়েছিল। সভা শেষে একটি মিছিল হয়। সেই মিছিলে হামলা হয়। এর পরেই উত্তেজনা এতটাই ছড়ায় যে, সুবোধকে গ্রেপ্তার করার জন্য গোটা আসামে আন্দোলন হয়। পুলিশ এক লক্ষ টাকা দেবার ঘোষণা দেয়। ৪৫ এর অধিক বাঙালিদের গ্রেপ্তার করে। বাঙালি হিন্দুদের ওপর নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। এই ঘটনার পর বিজেপির ‘হিন্দুপ্রেম’ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালিরা প্রশ্ন তোলেন, বিজেপি সরকার কেন বেছে বেছে বাঙালিদের গ্রেপ্তার করছে ? যদি উদ্বাস্তুদের সমস্যার সমাধান না করা হয়, তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেন বলেছিলেন,  বাংলাদেশ থেকে আসা রিফিউজি হিন্দুদের নাগরিকত্ব ও পুনর্বাসন দেওয়া হবে ? আসামে সরকার, বিরোধী দল ও বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে এত সম্পর্ক খারাপ হচ্ছিল যে,এই বাংলা থেকেও তার নিন্দা করা হয়েছিল।
আমরা বাঙালির নেতা তারক বিশ্বাস অসম ভবনে স্মারকলিপি জমা দিয়ে এসে টিডিএন বাংলাকে বলেন, “বিদেশি ” নোটিশ নিয়ে পুলিশ বাড়ি-বাড়ি গিয়ে বাঙালিদের ধরে ডিটেনশন ক্যাম্প এ ঢুকিয়ে দিচ্ছে এই পরিস্থিতিতে বাঙালি জাতি নীরব থাকতে পারে না। দেওয়ালে পিঠ লেগে আছে মরতে যখন হবে তখন লড়াই করে মৃত্যুই হচ্ছে বীরের মৃত্যু। ধর্মের নামে জাতি সত্ত্বাকে বিভাজিত করার চেষ্টা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার এক দেউলিয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিরা স্বাধীনতার পর থেকে শুরু করেছেন। তা আজও অব্যাহত।  প্রাক্তন মুখমন্ত্রী প্রফুল্ল মহন্ত থেকে শুরু করে রেলপ্রতিমন্ত্রী জনের গোঁহাই ও তরুণ গগৈ এর মধ্যে কে কত টুকু বাঙালি বিদ্বেষী তার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।  রাজেন গোঁহাই বলেছেন , “বরাকেরর বাংলা ভাষা আন্দোলন ভুল হয়েছে , একাদশ শহীদের আত্মবলিদানে স্বীকৃত বরাকেরর সরকারি ভাষা বাংলার বদলে অসমীয়া করা হোক।”
সব মিলিয়ে প্রবল চাপে ছিল আসাম সরকার। আর তাই নাহিদ আফ্রিনের মত শিশু শিল্পীকে নিয়ে, মুসলিম সেন্টিমেন্টে আঘাত দেবার জন্য নাটক করা হচ্ছে।
মুসলিমদের প্রশ্ন-কোন ৪০ জন ইমাম ফতোয়া দিয়েছেন?কোথায় ফতোয়া দিয়েছেন ? তাঁর বাড়ি কোথায় ? ফতোয়ার কপি কোথায় ? আদৌ তাঁরা ইমাম নাকি অন্য কিছু ? আবার অনেকের প্রশ্ন, একটি অনুষ্ঠান নিয়ে নানা জনের নানা মতামত থাকতেই পারে। আলোচনা, সমালোচনা সবই হতে পারে। কিন্তু আসামে যে সময় বাঙালি উদ্বাস্তু আন্দোলন চলছে,যখন লক্ষ লক্ষ বাঙালি নির্যাতিত হয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছে, তখন হটাৎ নাহিদ ইস্যু সত্যিই অবাক করার। আর বাঙালি মিডিয়া, বাঙালি নাগরিক সমাজ, কবি, শিল্পীরা বছরের পর বছর আসামের উদ্বাস্তু বাঙালিদের ওপর অত্যাচার দেখে নীরব থাকেন তাঁরা আজ নাহিদ নিয়ে হৈ হৈ করছেন যা খুব লজ্জার।কোকরাঝাড় এলাকায় ১৪৩ জন হিন্দু নারী ও শিশু ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকলেও এই সব বুদ্ধিজীবীরা কথা বলেনা।সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করা যায় কিন্তু বিষয়ের গভীরে গিয়ে সমস্যার সমাধান করে সত্যের পক্ষ নেওয়া বড়ো কঠিন কাজ।