টিডিএন বাংলা ডেস্ক: গত সপ্তাহে হায়দরাবাদের শাদনগরে ২৬ বছর বয়সী পশুচিকিৎসক প্রিয়াঙ্কা রেড্ডিকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। সুক্রবার ভোরে সেই চার অভিযুক্তকে এনকাউন্টার করে মারে হায়দ্রাবাদ পুলিশ। দেশে ক্রমাগত বেড়ে চলা মহিলাদের উপর অত্যাচারের ঘটনায় রীতিমতো ফুঁসছে দেশ। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বলেন, পকসো আইনে অপরাধী প্রমাণ হওয়াদের ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করতে দেওয়া উচিত না।

রাজস্থানের ধর্মীয় সংগঠন ব্রহ্মকুমারীর একটি সভায় বক্তৃতা রাখার সময় এই কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এই বিষয়ে সংসদকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মহিলাদের সুরক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।’ এদিকে ২০১২ সালের গণধর্ষণ কাণ্ডে অভিযুক্ত বিনয় শর্মার ক্ষমাপ্রার্থনার আবেদন রাষ্ট্রপতিকে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বররাষ্ট্র মন্ত্রক।

এদিকে যেই সংসদের উপর এই বিষয়ে আস্থা স্থাপন করছেন রাষ্ট্রপতি, সেই সংসদ আজ মহিলাদের উপর ঘটে চলা বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে উত্তাল হয়ে ওঠে। বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করে কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী আজ বলেন, ‘দেহের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে উন্নাওয়ের নির্যাতিতার। এই দেশে এটা কী হচ্ছে? আমাদের সরকার সরকার রাম মন্দির তৈরিতে ব্যস্ত, ওদিকে সীতা মাকে জ্যান্ত পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এত সাহস অপরাধীরা কী করে পায়?’

আজ সকালেই হায়দরাবাদ ধর্ষণ কাণ্ডে অভিযুক্তদের এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়। যা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় সংসদে। দেশে ক্রমাগত বেড়ে চলা এরকম ঘটনার প্রতিবাদে সরকারের নিষ্কৃয়তার অভিযোগ এনে সরব হন কংগ্রেস সাংসদরা। পরে প্রতিবাদে তারা সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।

চলতে থাকে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের পালা। এই বিষয়ে বিজেপি সাংসদ স্মৃতি ইরানি বলেন, ‘আপনারা (বিরোধী সাংসদ) এখানে চেল্লাচ্ছেন, যার অর্থাৎ আপনারা চান না যে কোনও মহিলা উঠে দাঁড়িয়ে নিজের বক্তব্য পেশ করুক।’ এরপর তৃণমূলকে আক্রমণ করে স্মৃতি বলেন, ‘আপনারা তখন কেন কোনও কথা বলেননি যখন রাজনৈতিক অস্ত্র হিসাবে ধর্ষণকে বেছে নেওয়া হয়েছিল।’

সংসদে অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে বিজেপি সাংসদ মানেকা গান্ধী বলেন, ‘যা হয়েছে তা ভয়বহ। শুধু মনে করলেই কাউকে এভাবে মেরে দেওয়া যায় না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যায় না। অবশ্য আদালতে তুললে অভিযুক্তদের ফাঁসি হত। তবে আমরা যদি আমরা আইনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই অভিযুক্তদের গুলি করে দেই তবে পুলিশ, আদালত, এসব রাখার অর্থ কী?’