টিডিএন বাংলা ডেস্ক: অসমে এনআরসি হওয়ার পর সারাদেশে এনআরসি করার জন্য একাধিকবার সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই একাধিক বার জানিয়েছিলেন বাংলাতেও এনআরসি হবে। সম্প্রতি তিনি ফের জানিয়েছেন সারাদেশের সঙ্গে বাংলাতেও এনআরসি হবে। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সংখ্যাই নাকি এখনও জানা যায়নি! বুধবার দেশব্যাপী জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি পরিচালনার পরিকল্পনা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে জানতে চাওয়া হলে সংসদে মিলেছে এমনই উত্তর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই বিশাল কাজটি সম্পাদনা করবে। তবে কীভাবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হবে সে সম্পর্কে এখনও বিশদে কিছুই ঠিক হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ শান্তা ছেত্রি বুধবার সরকারকে প্রশ্ন করেন, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি পশ্চিমবঙ্গেও পরিচালিত হবে কিনা এবং এই রাজ্যে বর্তমানে অবৈধ অভিবাসীদের সংখ্যা সম্পর্কে কেন্দ্রের কাছে কোনও তথ্য থাকলে তাও জানতে চেয়েছিলেন তিনি।

“যেহেতু অবৈধ অভিবাসীরা অনৈতিকভাবে এবং গোপনে ভ্রমণ সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গ সহ এই দেশের নানা রাজ্যে প্রবেশ করে, তাই পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী এই ধরনের অভিবাসীর সংখ্যার সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না,” রাজ্যসভায় জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নিত্যানন্দ রাই।

রাজ্যসভায় লিখিত একটি জবাবে নিত্যানন্দ বলেন, “বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টি এবং সুরক্ষা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিষয়গুলি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বরাষ্ট্রসচিব স্তরের আলোচনাসহ বিভিন্ন স্তরে নিয়মিত উত্থাপিত হয়। ভারতে, বিশেষত সীমান্ত এলাকা ও নদীর পাশের জায়গা দিয়ে তাদের নাগরিকদের অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ করার জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছে।”

দেশব্যাপী এনআরসি করার ক্ষেত্রে আরও নানান বিষয়গুলিও তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকরা। মন্ত্রকের একজন কর্মকর্তা বলেন, “এনআরসি আদমশুমারির চেয়েও কঠিন কাজ। অসমে এনআরসি করার চূড়ান্ত সময়সীমা ছিল ১৯৭১ সাল। তবে দেশের বাকি অংশের এনআরসির সেই চূড়ান্ত সময়সীমা কী হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।”

সমালোচকদের মতে, দেশজুড়ে এনআরসি পরিচালনা করা আসলে জনগণের করের অপচয় মাত্র। একজন উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “কংগ্রেস সরকার ২০০৫ সালে অসমে এনআরসি পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং পুরোটা শেষ করতে ১৪ বছর সময় লেগেছে। ভারত জুড়ে এই এনআরসি করতে কত সময় লাগবে তা নিয়ে কেউ নিশ্চিত নয়।”

তিনি আরও বলেন, “শুধুমাত্র অসমে এনআরসির ব্যয় ছিল ১৬০০ কোটি টাকা এবং যদি এনআরসি ২৮ টি রাজ্য এবং নয়টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে করতে হয় তবে মোট খরচা ৬০,০০০ কোটি টাকার চেয়ে কম হবে না।”