টিডিএন বাংলা ডেস্ক: করোনা ভাইরাস ও লকডাউনের জেরে ভিনরাজ্য থেকে হেঁটে নিজেদের গ্রামের বাড়িতে ফিরতে গিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৭ জন প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তাদের মধ্যে ওই শ্রমিক পরিবারের ৫ শিশু সন্তানও রয়েছে। এ ছাড়াও লকডাউনের কবলে পড়ে সবমিলিয়ে মোট ২২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, দিল্লির এক রেস্টুরেন্টের ডেলিভারি বয় (৩৯) ২৮ মার্চ আগ্রায় প্রাণ হারান। মধ্যপ্রদেশের মোরেনা জেলা থেকে ঘরে ফেরার পথে আগ্রায় মৃত্যু হয় তার। তিনি আগ্রার বাডফা জেলার বাসিন্দা। তার নাম রণবীর সিং বলে জানা গেছে। প্রায় ২০০ কিলোমিটার পথ হাঁটার পর মৃত্যু হয় তার।

২৯ মার্চ সকালে নবভারত টাইমস-এর গুরগাঁওয়ের প্রতিনিধি সোনু যাদব টুইট করেন, একটি দ্রুত গতিতে আসা ট্রাক ৫ প্রবাসী শ্রমিক পরিবারকে পিষে দেয়। ওই শ্রমিক ও তাদের পরিবার হরিয়ানার বিলাসপুর এলাকায় নিজেদের বাড়ি ফিরছিল। ঘটনাস্থলেই তাদের সবার মৃত্যু হয়। যদিও পরে আর একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করে পাঁচজন নয়, চারজন প্রাণ হারিয়েছিল। আর একজন জখম হয়েছিল। আর একটি দুর্ঘটনা ঘটে ২৭ মার্চ রাতে। তেলেঙ্গানার ৮ প্রবাসী শ্রমিক কর্নাটকের রাইচুড় জেলায় নিজেদের বাড়ি ফিরছিল। সেইসময় এক পথদুর্ঘটনায় ওই ৮ জনেরই মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ১৮ মাসের ও ৯ বছরের দুই শিশু ছিল। তারা তেলেঙ্গানার সুর্যপেট জেলার একটি নির্মীয়মাণ ফার্মে শ্রমিকের কাজ করত। একটি গাড়ি করে ফেরার সময় পেছন থেকে চাপা দেয় পণ্যবাহী ট্রাক। সেখানেই মৃত্যু হয় তাদের।

এ ছাড়াও ২৮ মার্চ মুম্বই-গুজরাত হাইওয়েতে আরও একটি দুর্ঘটনা ঘটে। ভিড়ার এলাকায় চার শ্রমিককে পিষে দেয় একটি ট্রাক। ঘটনাটি ঘটে ভোর তিনটে নাগাদ। শনিবার আরও একটি পথদুর্ঘটনায় ২৬ বছর বয়সি এক পথ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। মোরাদাবাদের পাকওড়ারা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। হরিয়ানার সোনিপত থেকে সে হেঁটে আসছিল নিজের গ্রাম রামপুরে (উত্তরপ্রদেশ)। সে একটি জুতোর কারখানায় শ্রমিকের কাজ করত। একটি বেসরকারি বাসের ধাক্কায় মৃত্যু হয় তার।

তবে লকডাউনে প্রথম মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছিল তামিলনাড়ুতে। এক বছরে এক শিশু চার প্রবাসী শ্রমিক জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে ঘরে ফিরছিল। সেই সময় জঙ্গলে আগুন লেগে তাদের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘটে থিনি জেলায়। আরও একটি মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে ২৮ মার্চ সুরাতে। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মৃত্যু হয় ৬২ বছরের এক বৃদ্ধের। ৮ কিলোমিটার পথ হাঁটার পর অসুস্থ হয়ে রাস্তার উপরই পড়ে মারা যান। ছেলের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন গঙ্গারাম ইলেঙ্গি। তারা সুরাতের নিউ সিভিল হাসপাতাল থেকে মুজুরাগেট এলাকায় ফিরছিলেন। (সৌজন্য- পুবের কলম)