টিডিএন বাংলা ডেস্ক: সব কিছু যেন এক দেশ, এক ‘অমুক’। এতদিন এক দেশ এক কর, এক দেশ এক রেশন এইসব শুনেছে মানুষ। এবার এক দেশ এক বাজার! তার তাই এবার বেশ কিছু সংস্কার এনেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। করোনার মারে জেরবার কৃষকদের কথা মাথায় রেখে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন সংশোধনে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এর ফলে এবার অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের তালিকা থেকে বাদ পড়ল চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, গম, ভোজ্যতেল, তৈলবীজ। মূলত এক দেশ এক বাজারের ধারণাকে মজবুত করতেই এই সিদ্ধান্ত। বলে জানা গেছে।

বুধবার পণ্য আইনে বদল আনার প্রস্তাবে সিলমোহর দেওয়ার পাশাপাশি, নয়া অর্ডিন্যান্স মঞ্জুর করে কৃষিপণ্যের ব্যবসা করা বড় মাপের বেসরকারি সংস্থাগুলি যাতে সরাসরি চাষিদের থেকে ফসল কিনে নিতে পারে, সেই রাস্তাও প্রশস্থ করল নরেন্দ্র মোদির সরকার। ‘The Farming Produce and Commerce (Promotion and Facilitation) Ordinance, 2020’র দৌলতে এবার থেকে স্বাধীনভাবে নিজের উৎপাদিত পণ্য বেসরকারি সংস্থা যেমন–শপিং মল বা মজুতকারীদের কাছে বিক্রি করতে পারবেন কৃষকরা। এর ফলে চাষিদের এখন থেকে আর শুধুই রাজ্যের কৃষিপণ্য বাজার কমিটি নিয়ন্ত্রিত মান্ডিতে গিয়ে ফসল বেচার বাধ্যবাধকটতা থাকছে না।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাবড়েকরের মতে, নয়া অধ্যাদেশ জারি হলে, অনেকটাই নিশ্চিন্ত হবে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সংস্থাগুলি। কৃষিক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য লালফিতের গেরোয় পড়ার ভয় আর তাদের মনে থাকবে না। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার বলেন, এক দেশ, এক কৃষি বাজার তৈরি হলে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে বা রাজ্যের মধ্যে কোনও বাধা ছাড়াই, কৃষিপণ্যের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্ভব হবে। কৃষিপণ্যের লেনদেনকারী বা রপ্তানিকারী সংস্থা বা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থাগুলি সরাসরি চাষিদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তাঁদের বাড়ি থেকে ফসল কিনতে পারবে। সব মিলিয়ে কৃষি ক্ষেত্রকে চাঙ্গা করতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে আনার পক্ষেই সায় দিয়েছে কেন্দ্র।
কিন্তু বিরোধীরা বলছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত কৃষকদের কাজে লাগবে না। কৃষির উন্নয়নে সরকারের কোনও লক্ষ নেই বলেই মনে করছেন বিরোধী নেতারা।