টিডিএন বাংলা ডেস্ক: এনপিআর-এর বিরোধিতা জানিয়ে বাংলার ২০ জন শিক্ষকের করা মামলার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রকে নোটিশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই এনপিআর কে অসাংবিধানিক এবং মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনকারী হিসাবে দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করেন ওই ২০ জন শিক্ষক। পিটিশনে তাঁরা জানিয়েছিলেন, ২০০৩ অনুযায়ী লোকাল রেজিস্ট্রারকেই এনপিআরে ‘সন্দেহজনক নাগরিক’ চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। দাখিল হওয়া সেই পিটিশনের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে শুক্রবার জবাব চেয়ে নোটিস জারি করল শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বোবডের নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ কেন্দ্রকে নোটিশ জারি করেছে। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে এনপিআরের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ইসরারুল হক মন্ডল সহ মোট ওই ২০ জন শিক্ষকের দাবি, এই পদ্ধতির ফলে পক্ষপাতিত্ব হতে পারে। ‘সন্দেহজক নাগরিক’ বাছার কাজে ফাঁকফোকর থাকার বিস্তর আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষকদের দাবি, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ৯ এবং ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সন্দেহজনক নাগরিকদের বের করার পন্থা আছে। তারপরেও একজন আঞ্চলিক অফিসারকে এই নাগরিক বাছার দায়িত্ব দেওয়া বিধিবহির্ভূত এবং অযৌক্তিক।

এই প্রসঙ্গে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, আগামী ২২ জানুয়ারি সংশোধনী নাগরিকত্ব আইন বিরোধী মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানি হবে। সেই সঙ্গে কেন্দ্রকেও এই বিষয়ে নোটিস পাঠানোর কথা জানায় সুপ্রিম কোর্ট।

এই আবেদনে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বাস্তবায়নেরও চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে, যা আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে মুসলমানদের বাদ দিয়ে ধর্মীয় নিপীড়নে পালিয়ে আসা সমস্ত মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মামলায় শিক্ষক ইসরারুল হক মন্ডলদের অভিযোগ, সঠিক নাগরিক বাছার এই কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে বড় সমস্যার মুখোমুখি হবে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। মুসলিমদের বেশিরভাগ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ও শিক্ষার দিক থেকে পিছিয়ে থাকায় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে যে কাগজপত্র দাবি করা হয়েছে, তা কতজন দিতে পারবেন সে সন্দেহ থেকেই যায়।

পিটিশনে শিক্ষকেরা লিখেছেন, দেশের প্রায় ৩০ কোটি মানুষের নিজস্ব সম্পত্তি নেই। এই ভূমিহীন মানুষেরা নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে প্রবল সমস্যার মুখোমুখি হবেন। পিটিশনকারীদের অভিযোগ, এনআরসি চালু করার প্রথম প্রক্রিয়া হল এনপিআর।