টিডিএন বাংলা ডেস্ক: সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল, আট জেলার স্থাপন করা হবে অতিরিক্ত ২০০ টি বিদেশি ট্রাইব্যুনাল। এই চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি প্রকাশের আগেই সক্রিয় হবে সেগুলি। কিন্ত চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পেলেও এখন অবধি অস্তিত্বহীন নতুন ট্রাইব্যুনালগুলি। এই পরিস্থিতিতে বাকি ২০০ টি ট্রাইব্যুনাল কবে গড়ে উঠবে, এর কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই বিদেশি ট্রাইব্যুনালে আবেদনের ক্ষেত্রে নাগরিকপঞ্জি -ছুটরা গভীর সমস্যায় পড়তে যাচ্ছেন। কারণ, ১৯ লক্ষ লোকের আবেদন গ্রহণ করার মতো পর্যাপ্ত সংখ্যক বিদেশি ট্রাইব্যুনালই এখনই নেয় রাজ্যে। অথচ এনআরসি- ছুটদের আবেদনের জন্য নিদিষ্ট সময়ের উল্টো গণনা শুরু হয়ে গেছে।

আট জেলায় প্রস্তাবিত বিদেশি ট্রাইব্যুনাল আজও স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বাকি ২০০ টি ট্রাইব্যুনাল কবে হবে, এর জন্য কতদিন অপেক্ষা করতে হবে, ঠিক নেই। অথচ চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়ে ১৯.০৬ লক্ষ লোক এখন আবেদনের জন্য অপেক্ষায়।তাই আট জেলায় অতিরিক্ত ২০০ টি ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন, বুঝতে পারছে রাজ্য সরকার। ফলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সেই ২০০ টি অতিরিক্ত ট্রাইব্যুনালকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ৩৩ টি জেলায় স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর জন্য সব জেলার শাসকদের নির্দেশ দিয়ে কী কী প্রয়োজন রয়েছে,সেটা জানতে বলছে স্বরাষ্ট্র দফতর। তাছাড়া নাগরিকপঞ্জি -ছুটদের রাজ্যে বর্তমানে টাকা ১০০ টি বিদেশি ট্রাইব্যুনালেও আবেদনের সুযোগ দিয়েছে সরকার।

কিন্ত সরকার আবেদনের সুযোগ দিলেও ট্রাইব্যুনালে আবেদনের ক্ষেত্রে নাগরিকপঞ্জি -ছুটরা প্রবল সমস্যার মুখে রয়েছেন। এর কারণ হচ্ছে ,সরকারের কোনও স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ট্রাইব্যুনাল আবেদনের সময় ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন করেছে কেন্দ্র। কিন্তু সেই সময় সীমা কবে থেকে শুরু হচ্ছে, সেটা স্পষ্ট নয়। নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন থেকে সেই সময়সীমা শুরু হবে, না চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে সরকারি নোটিফিকেশন জারির তারিখ থেকে, সেটা বলতে পারছে না কেউ। কেন্দ্রীয় সরকার ২০০৩ সালের নাগরিকত্ব (রেজিষ্ট্রেশন অব সিটিজেন্স এন্ড ইস্যু অব ন্যাশনাল আইডেনডিটি কার্ড) বিধির অসমের জন্য প্রযোজ্য বিশেষ সূচির ৮ নং দফা সংশোধন করে আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি করলেও কখন থেকে শুরু হবে ,সেটার উল্লেখ নেই স্পষ্টভাবে। সেই বিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দাবি আপত্তি -নিষ্পত্তির সিদ্ধান্তে কেউ অসন্তুষ্ট হলে সেই নির্দেশ জারির দিন থেকে ১২০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন।

তাৎপর্যপর্ণভাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র সোমবার ‘টুইটে’ দাবি করেছেন, ৩১ আগস্ট থেকে ১২০ দিনের সময়সীমা হয়ে গেছে। তবে চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি নিয়ে রাজ্য সরকার যেভাবে অসন্তুষ্ট, তাতে কবে শেষ হবে জানা নেই। যুগশঙ্খ