টিডিএন বাংলা ডেস্ক: কেন্দ্রের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী তীব্র প্রতিবাদ অব্যাহত। আন্দোলনের জেরে রীতিমত চাপে রয়েছে কেন্দ্রের মোদী সরকার। দেশজুড়ে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি চালু করার কোনও পরিকল্পনা নেই কেন্দ্রের, অবশেষে মঙ্গলবার সংসদে লিখিত লিখিত আকারে জানাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই।

লোকসভায় একটি লিখিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রায় বলেন, “এখন অবধি জাতীয় পর্যায়ে ভারতীয় নাগরিকদের জাতীয় নিবন্ধ প্রস্তুত করার বিষয়ে সরকার কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।”

এই বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে লাগাতার বিরোধিতা করতে দেখা যায় প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে। দুদিন আগেই কংগ্রেস এনআরসি, এবং জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধক বা এনপিআরকে চূড়ান্ত ভাবে ‘অগণতান্ত্রিক’ অ্যাখ্যা দিয়ে সংসদে সরব হয় তারা।

অন্যদিকে সমস্ত আলোচনা থামিয়ে সিএএ, এনপিআর এবং নাগরিকদের জাতীয় নিবন্ধের বিষয়ে আলোচনা করতে ইতিমধ্যেই বিধি ২৬৭-র অধীনে নোটিশ দিতে দেখা গেছে ডিএমকে, সিপিআই, সিপিআই(এম), এনসিপি, আরজেডি, টিএমসি, এসপি এবং বিএসপিকেও।

দিল্লিতে বিজেপি প্রচার করছে যে, আজাদি বলতে আন্দোলনকারীরা দেশ থেকে আজাদির কথা বলছে৷ সিএএ-এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে বা সংসদে যে এই ধরনের কোনও আজাদি চাওয়া হয়নি, স্পষ্ট করেছে কংগ্রেস৷ তাদের এক নেতা সোমবার বলেন, সরকার-বিরোধী আন্দোলনে যেমন খিদের জ্বালা, বেকারত্ব এবং হিংসা থেকে আজাদি চাওয়া হয়েছে, আমরাও তেমন সিএএ-এনপিআর-এনআরসির বিরুদ্ধে আজাদির কথা বলেছি৷ এটা মনে রাখা দরকার৷

তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, নিত্যানন্দ রাইয়ের এই লিখিত বিবৃতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বক্তব্যের সঙ্গে অমিল। যেখানে মন্ত্রী বারবারই জাতীয় নাগরিকপঞ্জি লাগু করতে ব্যস্ত হয়ে উঠছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করছেন বিভিন্ন সভায়, সেখানে প্রতিমন্ত্রীর এই লিখিত বিবৃতিতেই স্পষ্ট যে তাঁদের সেসব বক্তব্য কেবলই মুখের কথা। আসলে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বুঝে, রাজনীতির জল মেপে তবেই এনআরসি চালুর সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র। আরেকাংশের মতে, এনআরসি’র বিষয়টি এতটাই স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে এই মুহূর্তে যে, এ নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনাই গড়ে তুলতে পারেনি মোদি সরকার।