টিডিএন বাংলা ডেস্ক: সামনে ৩০শে মে গঠিত হবে নতুন মন্ত্রীসভা। কিন্তু জয়ী সাংসদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে খুনের, কারও বিরুদ্ধে ধর্ষনের আবার কারও বিরুদ্ধে অন‍্যান‍্য মামলা চলছে। এবার ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে নবনির্বাচিত ৫৩৯ জন সাংসদের মধ‍্যে ২৩৩ জন সাংসদই ফৌজদারি মামলার আসামি।

যারা জনপ্রতিনিধি হয়ে দেশ চালাবেন তাদের নামেই তো দেশের মধ্যে দাগী আসমীর স্টাম্প লাগানো। তাদের নামেই তো চলছে ফৌজদারি মামলা। তাই এবার কলঙ্কের দাগ নিয়েই গঠিত হবে নতুন জনপ্রতিনিধি। পরিসংখ্যান বলছে, নতুন সাংসদদের প্রায় অর্ধেকের গায়েই লেগে রয়েছে অপরাধীর তকমা৷

জয়ীদের কেরিয়ার খতিয়ে দেখে বিশ্লেষকরা বলছেন, ৫৩৯ জন জয়ী প্রার্থীর মধ্যে ২৩৩ জনের বিরুদ্ধে কোনও না কোনও অপরাধের মামলা চলছে৷ তাঁরা নিজেরাই প্রার্থীপদে মনোনয়নের সময় তা প্রকাশ করেছেন৷ যেমন, কেরলের ইদুক্কিতে কংগ্রেসের সাংসদ ডিন কুরিয়াকোসের বিরুদ্ধে অন্তত ২০০টি মামলা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন৷ তার মধ্যে অন্যতম অনুপ্রবেশ, ডাকাতি, খুনের মতো গুরুতর মামলা৷ ১৯ জন মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধে অভিযুক্ত৷ হয় ধর্ষণ, নয়তো অপহরণ কিংবা খুন৷

অপরাধীদের মধ্যে ২৯ জন উসকানিমূলক বক্তব্য রাখার অপরাধে আইনি জটে আটকে আছেন৷ শতকরা হিসেব করলে, ২০১৯-এ জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ৪৩ শতাংশের বিরুদ্ধে জারি অপরাধের মামলা৷ ২০১৪ সালে এই হারটা তুলনায় কম ছিল৷ ৫৪৩ জনের মধ্যে ১৮৫ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ছিল, শতকরা হিসেবে যা ৩৪ শতাংশ৷ আর ২০০৯ সালে এই হার ছিল ৩০ শতাংশ৷ অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধে অভিযুক্ত প্রার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে৷ এবছর ভোপাল থেকে মালেগাঁও বিস্ফোরণে অভিযুক্ত সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর প্রার্থী হওয়া এবং বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ায় ফের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অপরাধের মামলার নথিপত্র খুঁটিয়ে দেখার মতো প্রাসঙ্গিক বিষয়টি উসকে দিল৷

এর মধ্যে আবার এনডিএ জোট, নীতীশ কুমারের জেডিইউ-তে জয়ী ফৌজদারি মামলা থাকা প্রার্থীদের সংখ্যা বেশি৷ প্রায় ৫৭ শতাংশ৷ কংগ্রেসের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা কিছুটা কম, ৪৩ শতাংশ৷ তৃণমূল প্রার্থীদের মধ্যে ৩৯ শতাংশের বিরুদ্ধে চলছে মামলা৷ আর সবদিক থেকে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি সম্পন্ন ভাবী সাংসদের শতকরা হিসেব মাত্র ১৫.৫ শতাংশ৷

তুল্যমূল্য বিচার করলে কিন্তু একটা বিষয় একেবারে স্পষ্ট৷ যাঁদের হাতে দেশবাসী আগামী ৫ বছরের জন্য ভালমন্দের ভার তুলে দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই কিন্তু হাজারও অপরাধের অভিযোগ৷ তা সত্ত্বেও জনরায়ে নির্বাচিত হয়ে তাঁরা সাংসদ হতে চলেছেন৷ দোষী সাব্যস্ত হওয়া বা বিনা দোষে মুক্ত হওয়াটা ভবিষ্যতের বিষয়৷ আপাতত এই ভাবমূর্তিতে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁরা নিজেদের কাজ কীভাবে করবেন, সেটাই তাঁদের কাছে চ্যালেঞ্জের বিষয়৷ হতেই পারে, শুধুমাত্র ভাল কাজ দিয়েই আগেকার ক্ষত মুছতে সক্ষম হবেন এঁরা৷