টিডিএন বাংলা ডেস্ক: হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে এখনও কিছু সময় বাকি। ইতিমধ্যেই অমিত শাহ জিন্ডে সমাবেশ করে বিজেপির পক্ষে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন। অন্যদিকে বিরোধী দল কংগ্রেসের হয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপিন্দর সিং হুদাও প্রচারের আলোয় এসেছেন। অত্যন্ত আশ্চর্যজনক ভাবে এবারের হরিয়ানার নির্বাচনী ইস্যুতে বাদ পড়েছে বেকারত্ব কর্মসংস্থানের বিষয়গুলি। পাকিস্তান ইস্যুইই কেন মূল বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

উল্লেখ্য, বেকারত্বের বিচারে হরিয়ানা গোটা দেশে দ্বিতীয়। অটো সেক্টরে মন্দার কারণে হরিয়ানায় হাজার হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। তবুও নির্বাচনে বেকারত্ব ইস্যু উধাও হয়ে পাকিস্তান এসে পৌঁছেছে!

পরিসংখ্যান বেকারত্ব সম্পর্কে কী বলে?
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বেকারত্ব নিয়ে জাতীয় নমুনা সমীক্ষা অফিসের (এনএসএসও) একটি প্রতিবেদন ফাঁস হয়। লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে ফাঁস হওয়া এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে দেশে বেকারত্বের হার ৬.১ শতাংশে পৌঁছেছে। এর অর্থ ৪৫ বছরে দেশে সর্বোচ্চ বেকারত্ব রয়েছে। যদিও সরকার এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল।

পরে মোদী সরকারের রাজ্যাভিষেকের পরের দিন কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান অফিস (সিএসও) বেকারত্বের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। সরকার অবশেষে মেনে নিয়েছে যে বেকারত্বের হার ৪৫ বছরের সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে। ভারতীয় অর্থনীতি কেন্দ্রের নজরদারি (সিএমআইই) হরিয়ানায় জুলাই মাসে বেকারত্বের হার ১৯.৫% বলে জানিয়েছে।

গুরুগ্রাম-মানেসারকে দেশের বৃহত্তম মোটরগাড়ি কেন্দ্র হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এখানে প্রতিষ্ঠিত অটোমোবাইল সংস্থাগুলি এবং উৎপাদন ইউনিট মন্দা মোকাবেলায় ঠিকাদার শ্রমিকদের বরখাস্ত করা হয়েছে। ফলে কাজ হারিয়েছে হাজার হাজার মানুষ।

বর্তমানে ধারা ৩৭০ এবং পাকিস্তান নির্বাচনে ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। হরিয়ানায় নির্বাচনী সমাবেশে পাকিস্তান, জম্মু- কাশ্মীর ও ৩৭০ ধারা নিয়েই সর্বাধিক চর্চিত হচ্ছে।

বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি জিন্ডেতে একটি সমাবেশ করেন। এই সমাবেশে শাহ বলেন, ‘৩৭০ অনুচ্ছেদ অপসারণের জন্য করা কাজ হরিয়ানার শহীদদের পক্ষে এর চেয়ে ভাল শ্রদ্ধাঞ্জলি হতে পারে না।’ সম্প্রতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংও হরিয়ানার কলকায় একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এই সমাবেশে তিনি পাকিস্তানকে সতর্ক করেছিলেন। রাজনাথ সিং স্পষ্ট করে বলেছিলেন -‘পাকিস্তানের সাথে এখন শুধু পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) বিষয়ে আলোচনা হবে।

অন্য জনসভায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টার ৩৭০ অনুচ্ছেদের কথা বলছেন।একটি সমাবেশে খট্টার মন্তব্য করেছিলেন যে হরিয়ানার মানুষ এখন কাশ্মীর থেকে মেয়ে আনতে পারবে।

কেবল শাসকদলই নয়, বিরোধীরাও বেকারত্বকে ইস্যু না করে কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদে সরকারকে সমর্থন করে জনগণের হৃদয়ে জায়গা করতে চায়। ১৯ আগস্ট রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী কংগ্রেসের বৃহত্তম নেতা ভূপিন্দর সিং হুদা ৩৭০ অনুচ্ছেদে নিয়ে তার দলকে নিশানা করেছিলেন। যাতে তিনি তার নিজের দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্বাচনে তার মুখোমুখি হতে চাপ দিতে পারেন।

পাকিস্তান কেন ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে
এটি একটি সহজ বিষয়, রাজনীতিতে নেতারা কেবল মানুষের মেজাজ দেখে কথা বলেন এবং জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে হরিয়ানা অন্যান্য অনেক রাজ্যের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হরিয়ানায় প্রচুর পরিসেবা ভোটার (সৈনিক) এবং প্রাক্তন-সৈন্য রয়েছে। সেখানে এক লাখেরও বেশি সেবা ভোটার, তিন লাখেরও বেশি প্রাক্তন-সৈন্য এবং প্রায় নয় লাখ নির্ভরশীল রয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর বলেছেন যে হরিয়ানায়’১ লক্ষ প্রাক্তন-সেনা পরিবার’ রয়েছে। অর্থাত্, নির্বাচনে যে কোনও রাজনৈতিক দলের ভাগ্য নির্ধারণে সৈনিক বা প্রাক্তন সেনা (এবং তাদের পরিবার) এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রোহটক, ঝজ্জর ও মহেন্দ্রগড়ের মতো কয়েকটি জেলায় এই জাতীয় পরিবারের সংখ্যা বেশ বেশি। এ ছাড়া জাতীয় সুরক্ষাকে ইস্যু বানানোর আর একটি সুবিধা হ’ল এমন পরিস্থিতিতে ভোটাররা জাতি ও সমাজ থেকে দূরে থাকেন। তবে এটাও সত্য যে বিরোধী দলের পক্ষে বিষয়টি ইস্যু করা শাসক দলের জালে আটকা পড়ার মতো। কারণ তাকে এই ইস্যুতে আরও লাভ করতে হবে। সে কারণেই চাকরি ও সংরক্ষণের মতো জটিল বিষয়ে কথা বলার পরিবর্তে নেতারা জাতীয়তাবাদকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।