টিডিএন বাংলা ডেস্ক: গণপ্রহার নিয়ে রাজ্যগুলির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, গণপ্রহার আটকাতে ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায় অমান্য করার অভিযোগ রাজ্যগুলির বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে রাজ্যগুলির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এই মামলার দ্রুত শুনানি হবে না।

প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি দীপক গুপ্ত, বিচারপতি অনিরুদ্ধ বোসের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, এর দ্রুত শুনানির কোনও প্রয়োজন নেই। যেসব আইনজীবীরা দ্রুত শুনানির আবদেন করেছেন, তাঁদের ৫০ শতাংশের আবেদন সঠিক নয়। ২০১৮ সালের ১৭ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে বলে, কেউ আইন হাতে নিতে পারে না। এছাড়া আদালত প্রতি জেলায় নোডাল অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দেয়। টহলদারি বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়।

অল ইন্ডিয়া মজলিস ই ইত্তেহাদুল মুসলিমেনের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েসী প্রধানমন্ত্রীকে গণপ্রহার আটকাতে আইন প্রণয়ন না করার জন্য প্রশ্ন করেন। তাঁর কথায়, এক বছর হল সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, তাসত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর দফতর আইন প্রণয়ন করতে ভয় পাচ্ছে কেনগণপ্রহার ঠেকাতে আগের লোকসভায় খসড়া বিলের প্রস্তাব করেছিলেন বলে জানান ওয়েসী। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উমর খালিদ বলেন, আইন প্রণয়ন না করার জন্য সরকারকে উত্তর দিতে হবে।

পরের পর ঘটনার বিস্তার

—————————-

গত কয়েক মাসে গণপ্রহার ও তার জেরে মৃত্যুর ঘটনা দারুণভাবে বেড়েছে। যা উদ্বেগের মাত্রা বাড়িয়েছে। ১৮ জুন তবরেজ আনসারিকে বাইক চোর সন্দেহে মারা হয়। এফআইআর এ বলা হয়েছে, আনসারিকে জয় শ্রী রাম, জয় হনুমান বলতে বাধ্য করা হয়। চার দিন পর পুলিশ হেফাজতে তাঁর মৃত্যু হয়।

২৪ জুন মহারাষ্ট্রের থানেতে ২৫ বছরের এক ব্যক্তিকে জয় শ্রী রাম বলানোর জন্য বেদম মারা হয়। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বিধানসভায় এইসব ঘটনা আটকাতে আইন আনার কথা বলেন। গত সপ্তাহে উত্তর প্রদেশের আইন কমিশন সরকারের কাছে এই রোগ আটকাতে খসড়া বিল পেশ করেছে। তাতে অপরাধীদের সাত বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আন্তর্জিতক মহলেও এর রেশ পড়েছে। আমেরিকা এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সব ঘটনার জন্য হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির দিকে আঙুল তুলেছে।