তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা : মোদী হটাও, দেশ বাঁচাও, বিজেপি হটাও, দেশ বাঁচাও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই স্লোগানে আন্দোলিত হল দিল্লির যন্তর-মন্তর। এদিন মোদী বিরোধিতার সুর চড়িয়ে বিরোধী ঐক্যের যে ছবি ফ্রমবন্দি হল, তার মধ্যমণি হয়ে থাকলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার জননেত্রী। এদিন বিরোধীদের `গণতন্ত্র বাঁচাও’ সমাবেশ থেকে মমতার দৃপ্ত ঘোষণা, ভোটের আগে আজ ছিল লোকসভার অধিবেশনের শেষ দিন। সেইসঙ্গে আজই ছিল মোদীর শেষ দিন। এক্সপায়েরি ডেট ওভার।

মমতার কথায়, একমাসের মধ্যে নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাবে। আর যা ইচ্ছে করতে পারবে না মোদী সরকার। স্বাভাবিকভঙ্গিতে তিনি বলেন, `আমরা সবাই চোর। আপনি সাধু-সন্ত!’ বিরোধী জোট সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার মত হল, যেখানে যে শক্তিশালী সেখানে সে লড়াই করবে। যেমন অন্ধ্রপ্রদেশে চন্দ্রবাবু। উত্তর প্রদেশে বিএসপি-এসপি, দিল্লিতে কেজরিওয়াল। বাংলায় আমার দল। আমি ৪২ টি আসনেই জিতব। স্পষ্ট দাবি মমতার। জাতীয় স্বার্থে তিনি যে প্রয়োজনে অন্য দলকে সমর্থনে তৈরি, সেই  বার্তাও দেন এদিনের মঞ্চ থেকে। এক্ষেত্রে বলা প্রয়োজন এদিনই মমতা সংসদের সেন্ট্রাল হলে সোনিয়া গান্ধীকে জানিয়েছেন, কংগ্রেসের সঙ্গে আর থাকবেন না। কারণ অধীর চৌধুরি চিটফান্ড নিয়ে যেভাবে তাঁর সরকারকে আক্রমণ করেছেন, তার জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়া প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রও জানিয়েছেন,তৃণমূলের সঙ্গে জোট হবে না। এদিন মমতার কথা থেকেও পরিষ্কার পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ৪২ টি আসনেই লড়াই করতে চায়। তবে জাতীয় স্বার্থে তিনি অন্য রাজ্যে অন্য দলকে সমর্থন করবেন, সেই বার্তাও এদিন দেন।

অরবিন্দ কেজরিওয়াল এই বিরোধী সমাবেশের আহ্বায়ক। তাঁর ডাকেই এই সমাবেশ। তাই তিনি কী বলেন সেদিকে নজর ছিল গোটা দেশের। বলতে উঠেই মোদীকে বিস্ফোরক আক্রমণ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। তাঁর প্রশ্ন, মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী না পাকিস্তানের? এরপরেই বলেন, মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলে এভাবে দেশের ক্ষতি করতে পারতেন না।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, আমি দেশবাসীকে বলব, একজন শিক্ষিত প্রধানমন্ত্রীকে ভোট দিন। দেশের কথা ভাবুন। কোনো একজনের কথা ভাববেন না।

মোদীর হিন্দুত্ব নিয়ে গর্জে ওঠেন এনসি নেতা ও জম্মু কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা। তাঁর কথায়, মুসলিমদের বলা হচ্ছে, এই দেশে থাকতে হলে আমাদের কথা শুনতে হবে। দেশটা কি আপনাদের বাপের? দেশটা সব ভারতীয়র।

মোদী বিরোধিতায় কোথাও যেন এক সুর প্রতিধ্বনিত হল সিপিএম ও তৃণমূলের গলায়। মোদীর বিরুদ্ধে একই সুরে আওয়াজ তুললেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। তাঁর কথায়, দূষণের রাজনীতি করছে বিজেপি। উন্নততর ভারত গড়তে কেন্দ্র থেকে এই সরকারকে সরাতে হবে।

ইয়েচুরি, মমতা ছাড়াও কেজরিওয়ালের ডাকে সাড়া দিয়ে এসেছেন তাবড় তাবড় নেতা। এসেছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু, সিপিআই নেতা ডি রাজা। কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে মঞ্চে এলেন আনন্দ শর্মা। হঠাৎ দেখা গেল মঞ্চে হাজির লোকসভার সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা।

আপের ধর্নায় যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও শেষপর্যন্ত আসতে পারেননি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া। প্রতিনিধি হিসেবে দানিশ আলিকে পাঠিয়েছেন। তবে মঞ্চে দেখা গেছে, শরদ পাওয়ার, যশবন্ত সিনহার মতো নেতাদের। এছাড়াও হাজির লোকতান্ত্রিক দলের নেতা শরদ যাদব, সমাজবাদী পার্টির নেতা রামগোপাল যাদব, রাষ্ট্রীয় লোকদলের তরফে এসেছেন ত্রিলোক ত্যাগী। ডিএমকে-র কানিমোঝি, ছিলেন অরুণাচলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গেগং আপাং।

খোদ দিল্লির বুকে এদিন বিরোধী ঐক্যের যে ছবি ফুটে উঠল, যেভাবে পরের পর নেতা মোদী বিরোধী সুরে গর্জে উঠলেন, তা কি মোদী-শাহদের উচ্চ রক্তচাপ বাড়াবার জন্য যথেষ্ট নয়?