টিডিএন বাংলা ডেস্ক: লকডাউনের সময় ই-কমার্স সংস্থাগুলির অভিযোগ, ওষুধ, খাবার, মুদি সামগ্রী ডেলিভারি করতে গিয়ে হেনস্থা ও মারধরের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের কর্মীদের। এই ধরনের অনভিপ্রেত সমস্যায় পড়ার পর হস্তক্ষেপের জন্য সরকারের কাছে আর্জি জানাচ্ছে সংস্থাগুলি। ‘বিগ বাস্কেট’, ‘ফ্রেশ মেনু’ ও ‘পোরটি মেডিক্যাল’-এর মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মের প্রোমোটার কে গণেশ জানাচ্ছেন, গত কয়েক দিন ধরে পুলিশ কর্মী তাঁদের ডেলিভারি এজেন্টদের হেনস্থা করছেন, নিগ্রহ করছেন এমনকী একটি ক্ষেত্রে তো গ্রেফতার পর্যন্ত করেছেন। এনডিটিভি-কে তিনি বলেন, সরকার একেবারে সঠিক পদক্ষেপ করেছে ঠিকই। কিন্তু মুদি, খাবার, ওষুধ ইত্যাদি অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার যে অনুমতি দেওয়া হয়েছে অনলাইন ডেলিভারি সংস্থাগুলিকে, তা নীচের স্তরে পৌঁছয়নি।

পুলিশের প্রতি তাঁর অভিযোগ, ‘‘ওরা অত্যন্ত নিষ্ঠুরতা দেখাচ্ছে। লোকজনকে মারধরও করছে। কেরলে আমাদের এক স্বাস্থ্য কর্মী এক রোগীর সেবার জন্য যাওয়ার সময় তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।”

তাঁর বক্তব্য, ‘‘এই মানুষগুলি নিজেদের জীবন বিপন্ন করছেন, এঁদের মারধর করবেন না। যদি অন্যরা পালিয়ে যায়, তাঁদের সহকর্মীদের মারধর করা হচ্ছে বলে তাহলে আমরা কিছু করতে পারব ‌না। যাঁরা প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও পরিষেবা দিতে যাচ্ছেন তাঁদের মারবেন না।”

একই সুর অনলাইন মুদিমাল সরবরাহকারী ‘গ্রফার্স’ ও মাংস সরবরাহকারী ‘ফ্রেশ টু হোম’-এরও। তাদেরও একই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাগুলি।

এর ফলে বহু সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে। ‘মিল্ক বাস্কেট’ জানাচ্ছে তারা ১৫,০০০ লিটার দুধ ও ১০,০০০ কেজি সবজি ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বুধবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, ‘‘আমরা সবজি-বিক্রেতাদের ই-পাস দিয়ে দেব। অন্যদেরও দেব, যারা লকডাউনের সময় পরিষেবা দিচ্ছে।”

দিল্লি পুলিশের জনসংযোগ আধিকারিক এমএস রান্ডোয়া এনডিটিভি-কে জানিয়েছেন, তাঁরা অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরু্দ্ধে পদক্ষেপ করবেন।

গুরগাঁও পুলিশ জানিয়েছে, তারাও তাদের পুলিশকর্মীদের নির্দেশ দেবে এই ধরনের ডেলিভারি পরিষেবা যাঁরা দেন তাঁদের তা করার অনুমতি দেওয়ার। সৌজন্য-এনডিটিভি বাংলা