টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ভীম আর্মি প্রধান দলিত নেতা চন্দ্রশেখর আজাদের সঙ্গে মীরাটের হাসপাতালে গিয়ে দেখা করলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তারপরই আজাদ হাসপাতালে শুয়েই জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হবেন। ফলে জল্পনা শুরু হয়েছে তাহলে কি কংগ্রেসের সমর্থনে বারাণসী থেকে প্রার্থী হচ্ছেন আজাদ? ইতিমধ্যেই সমাজবাদী পার্টি, বিএসপি’র জোটে বারাণসীতে সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী হবে। এখন কংগ্রেস এই দলিত নেতাকে প্রার্থী করলে সেখানে সমীকরণ কি দাঁড়াতে পারে তা নিয়েও শুরু হয়েছে চর্চা।

অন্যদিকে, আজাদ যা বলেছেন তার সারকথা তিনি প্রার্থী হবেন মোদীর বিরুদ্ধে। সকলেই তাঁকে সমর্থন দিক। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মীরাটের হাসপাতালে গিয়ে চন্দ্রশেখর আজাদের সঙ্গে দেখা করার ঘণ্টা খানেক পরেই অখিলেশ যাদব দেখা করেন মায়াবতীর সঙ্গে। সব মিলিয়ে হঠাৎ করেই উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মীরাটের হাসপাতালে হঠাৎই হাজির হন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পশ্চিম উত্তর প্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এবং কংগ্রেস নেতা রাজ বব্বর। প্রথমে চন্দ্রশেখরের সমর্থকরা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে হাসপাতালে ঢুকতে দিতে রাজি হননি। প্রায় মিনিট পনেরো পরে ভেতরে যান তিনি। হাসপাতাল থেকে বেরনোর সময়ে কংগ্রেস নেত্রী জানান, এই ছেলেটির লড়াই আমার ভালো লাগে। ওকে বলতে বাধা দেওয়া উচিৎ হচ্ছে না। যোগী সরকার অনৈতিকভাবে ওকে আটক করেছে। আমি ওর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতেই এসেছিলাম। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। সব মিলিয়ে আধ ঘণ্টা হাসপাতালে ছিলেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। তবে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ‘রাজনীতির সম্পর্ক নেই’ বললেও যে রাজ্যে প্রায় ২০শতাংশ তফসিলি জাতির মানুষের বসবাস সেখানে এই দলিত নেতার সঙ্গে কংগ্রেস নেত্রীর সাক্ষাত নেহাতই ‘সৌজন্য’ মানতে নারাজ ওয়াকিবহাল মহল। এরপরেই পরিস্থিতি আরও নাটকীয় মোড় নেয়। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী চলে যাওয়ার পরে মীরাটের হাসপাতালের বেডে শুয়েই চন্দ্রশেখর আজাদ সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন, তিনি বারাণসী যাচ্ছেন মোদীর বিরুদ্ধে লড়তে। স্বৈরাচারী মোদীকে তিনি অত সহজে উত্তর প্রদেশ থেকে জিততে দেবেন না বলেও জানিয়ে দেন। দলিত বিরোধী, মুসলিম বিরোধী মোদীকে তিনি সহজে ছাড়বেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন চন্দ্রশেখর আজাদ। মোদী-যোগীকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি জানিয়ে দেন, ১৫ মার্চ দিল্লিতে বহুজন হুঙ্কার সমাবেশ হবেই। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, কারো কাছেই সমর্থন চাইতে যাবেন না তিনি। তবে মোদীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সকলেরই উচিৎ তাঁকে সমর্থন করা উচিৎ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বারাণসীতে মোদীর বিরুদ্ধে মুলায়াম সিং যাদব, অখিলেশ যাদব বা মায়াবতীর মধ্যে কেউ লড়লে তিনি সরে দাঁড়াবেন। তা নাহলে অন্যরা তাঁকে সমর্থন করুক এই ছিল চন্দ্রশেখর আজাদের মূল বক্তব্য। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী তাঁকে সমর্থন দেওয়ার কথা বলেছেন কিনা তা স্পষ্ট করেননি আজাদ। হাসপাতাল থেকেই একটি ভিডিও বার্তায় আজাদ বলেছেন, ১৫ মার্চ দিল্লিতে বিশাল সমাবেশ হবে। কেউ সেটা আটকাতে পারবে না। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী হাসপাতালে এসে চন্দ্রশেখর আজাদের সঙ্গে আলোচনা করে যাওয়ার ঘণ্টা খানেক পরেই অখিলেশ যাদব দেখা করেন বিএসপি নেত্রী মায়াবতীর সঙ্গে। দুইজনের মধ্যে কি আলোচনা হয়েছে তা জানানো হয় আনুষ্ঠানিকভাবে। তবে মনে করা হচ্ছে এই পরিস্থিত নিয়েই আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে বিএসপি’র সঙ্গে কংগ্রেসের যে তিক্ততা তৈরি হয়েছে তারই পালটা হিসাবে হিসাব কষেই ভীম আর্মির নেতাকে নিজেদের দিকে টানতে চাইছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। উত্তর প্রদেশে এইরকম ডাকাবুকো দলিত নেতার উত্থান ভালোভাবে দেখছেন না মায়াবতী। অল্প সময়ের মধ্যেই যেভাবে চন্দ্রশেখর উঠে এসেছেন রাজনীতির সামনের সারিতে এবং দিল্লিতে বিশাল সমাবেশ করেছিলেন তা শুধু বিজেপি নয়, বিএসপি’ও খুব একটা ভালোভাবে দেখেননি। এরপর রাজ্যে যোগী সরকার আসার পরেই সাহারানপুরে দলিতদের উপরে তথাকথিত উচ্চবর্ণের হামলার পরেই গ্রেপ্তার করা হয় চন্দ্রশেখর আজাদকে। দীর্ঘ সময়ে নানা ধরনের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে রাখা হয়। যা তাঁকে আরও জনপ্রিয়তা দিয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। বিজেপি’র তীব্র বিরোধী আজাদ সাধারণভাবে এসপি-বিএসপি জোটের সমর্থনেই কথা বলেছেন। কিন্তু এদিন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী দেখা করে যাওয়ার পরেই পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র রাজেন্দ্র চৌধুরি যদিও এদিন অখিলেশ-মায়াবতীর বৈঠককে দুই নেতার যৌথ সমাবেশের বিষয়ে আলোচনার বলে জানিয়েছেন। তবে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, বৈঠকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর চন্দ্রশেখরের সঙ্গে দেখা করার বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মায়াবতী কংগ্রেসের চাপের কাছে নত হতে রাজি নয়। দু’টির বেশি আসন কংগ্রেসকে দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দেওবন্দ থেকে মিছিল করায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে যোগীর পুলিশ। যদিও মিছিলের জন্য তাঁর আগাম অনুমতি নেওয়া ছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগ আনা হয়েছে চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে। বলা হয়েছে অনুমতির তুলনায় বেশি বাইক এবং গাড়ি ছিল ওই মিছিলে। অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন আজাদ। দিল্লির সমাবেশে যেত না দেওয়াই লক্ষ্য, সেই কারণেই তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে দলের অন্য নেতারা জানিয়েছেন। তারপর থেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আজাদ।