টিডিএন বাংলা ডেস্ক: শুধুমাত্র ধর্মের কারণে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগ সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারের বিরুদ্ধে। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে অন‍্য হাসপাতালে যাওয়ার পথে অ‍্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই সন্তান প্রসব করেন ওই মহিলা। তবে শিশুটি বাঁচেনি। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের জয়পুরের একটি সরকারি হাসপাতালে।

মহিলার স্বামী ইরফান খানের অভিযোগ, “আমার স্ত্রী গর্ভবতী ছিল। ওর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়েছিল। সিক্রি থেকে জেলা সদরে জানানা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল তাঁকে।‌ কিন্তু সেখানের ডাক্তাররা বললেন আমাদের জয়পুর যাওয়া উচিত কারণ আমারা মুসলিম। আমি যখন আমার স্ত্রীকে অ‍্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন সে আমাদের সন্তানের জন্ম দেয় কিন্তু শিশুটি মারা যায়। আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য আমি প্রশাসনকে দায়ী করি।”

এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানানা হাসপাতালের অধ‍্যক্ষ ডাঃ রূপেন্দ্র ঝা বলেছেন, “একজন মহিলা অত্যন্ত সঙ্কটজনক অবস্থায় প্রসবের জন্য এসেছিলেন হাসপাতালে। তাকে জয়পুর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল।‌ কোনো ত্রুটি হয়ে থাকলে তার তদন্ত করা হবে।”

রাজ‍্যের পর্যটন মন্ত্রী বিশ্বেন্দ্র সিং বলেন, “এর থেকে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। এটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ এবং সরকার এই বিষয়গুলিতে অত‍্যন্ত সংবেদনশীল।” যেই ডাক্তার ওই মহিলাকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করেছিলেন তাঁর নাম মনীত ওয়ালিয়া বলে জানিয়েছেন তিনি।

এআইএমআইএম নেতা আসাদুদ্দিন ওয়েসী বক্তব্য, ‘‘ভরতপুরের হাসপাতালের কর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত। এমন ঘৃণার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে যে তার ফলেই প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ। এখন কি মুসলিমেরা হাসপাতালেও যাওয়া বন্ধ করে দেবেন? মৌলবাদী হিন্দুত্ব কি সরকারি প্রশ্রয় পাচ্ছে? না সমাজের বড় অংশই মৌলবাদকে সমর্থন করছে? এই অবস্থা বদলাতে কোনও পদক্ষেপ করা হবে কি’’