তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা : বোনকে রাজনীতিতে নিয়ে আসার সরব ঘোষণা করেছেন দাদা। প্রিয়ঙ্কার রাজনৈতিক সফর শুরু এখন সময়ের অপেক্ষা। দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু। কংগ্রেস সদর দফতরে রাহুল গান্ধীর পুরনো ঘরে বসবেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। ঘরের সামনে নতুন করে বসল নেমপ্লেট। এদিকে কংগ্রেসের উত্তর প্রদেশে গেম প্ল্যান ঠিক করতে এদিন দলের সভাপতি রাহুল গান্ধী ও জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার সঙ্গে প্রায় ২ ঘণ্টা বৈঠক করেন প্রিয়ঙ্কা। একদিন আগেই প্রিয়ঙ্কা ব্যক্তিগত সফর সেরে আমেরিকা থেকে দেশে ফিরেছেন। কংগ্রেসের এই নবনিযুক্ত সাধারণ সম্পাদক এদিন দাদা রাহুল ও জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার সঙ্গে কংগ্রেসের রণকৌশল ঠিক করতে ম্যারাথন বৈঠক করেন। সিন্ধিয়া উত্তর প্রদেশ পশ্চিমের দায়িত্বে রয়েছে। অন্যদিকে প্রিয়ঙ্কাকে দেওয়া হয়েছে পূর্বের দায়িত্ব। লোকসভা ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে তাঁদের কথা হয়। কারণ এই রাজ্য বরাবরই কংগ্রেসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকেই সাংসদ রাহুল।

সূত্রের খবর, ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রিয়ঙ্কা উত্তর প্রদেশ সফর শুরু করতে পারেন। সেই দিনই তিনি লখনউয়ে যাবেন। রোড শো করবেন। কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। শোনা যাচ্ছে, উত্তর প্রদেশের দায়িত্ব গ্রহণ করার আগে তিনি প্রয়াগরাজে গিয়ে সঙ্গমে ডুব দেবেন। দলে দলে রাজনৈতিক নেতা নেত্রীরা কুম্ভমেলায় গিয়ে পুণ্যার্জনের লক্ষ্যে ডুবস্নান করছেন। প্রশ্ন হল, সাধু, সন্ত, পুণ্য, মন্দির-এসব তো বিজেপির অনুসঙ্গ। কুম্ভমেলা হিন্দু মেলা। কংগ্রেসও কি কুম্ভে মুক্তির পথ খুঁজছে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে রাহুল নরম হিন্দুত্বের পথে হাঁটছেন। তিনি বিভিন্ন মন্দিরে যাচ্ছেন। যদিও এই নিয়ে বিজেপি উপহাস করতে ছাড়ছে না।

অনেক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। প্রিয়ঙ্কা রাজনীতিতে আসা নিয়ে দলের অন্দরেই চাপ বাড়ছিল। এই অবস্থায় অবশেষে রাজনীতিতে পাকাপাকিভাবে পা রাখলেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। উত্তর প্রদেশ পূর্বের এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁকে নিয়োগ করা হয়। প্রিয়ঙ্কার কর্মভূমি এমন একটা জায়গা থেকে শুরু
হল, যেখানে জড়িয়ে আছে নেহরু-গান্ধী পরিবারের দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস। রাহুলের রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। এক সময় রাহুল যখন বারেবারে ব্যর্থ হয়েছেন, তখন দলের অন্দরেই প্রিয়ঙ্কাকে রাজনীতিতে আনার জন্য চাপ বাড়তে থাকে। অবশেষে তিনি এলেন, জয় করবেন? দেখা যাক।