টিডিএন বাংলা ডেস্ক : দেশের মধ্যে গান্ধি পরিবারই সম্ভবত একমাত্র রাজনৈতিক পরিবার, যারা বিশাল এই দেশটিতে পারিবারিক প্রথম ব্র্যান্ড নাম হিসেবে পরিচিত। দেশের প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দারাও সোনিয়া গান্ধি, রাহুল গান্ধি এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধির নামের সঙ্গে পরিচিত।

এ পরিবারটি সম্পর্কে সবাই জানলেও প্রকৃতপক্ষে আমরা গান্ধি পরিবারের সবার সম্পর্কে খুব কম জানি। তবে এখন সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি দেখা দিয়েছে সেটি হলো, প্রিয়াঙ্কা গান্ধি কী রাজনীতিতে যোগ দেবেন কিংবা তিনি কী প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য নির্বাচনে লড়াই করতে যাচ্ছেন? কংগ্রেসের এক নেতা ব্যক্তিগতভাবে প্রিয়াঙ্কাকে ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধি চমৎকার একজন বক্তা। তিনি তার মা সোনিয়া গান্ধি ও ভাই রাহুল গান্ধির মতো নন। প্রিয়াঙ্কার আচরণ, ব্যক্তিত্ব ও চলাফেরা তার ঠাকুমা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির মতো। ইন্দিরা গান্ধি এখনও দেশের মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। প্রিয়ঙ্কা গান্ধির প্রচুর ধৈর্য্য ও সহ্যক্ষমতা রয়েছে। কেননা তিনি বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করেছেন তার ভাই রাহুল গান্ধি রাজনীতিতে পরিপক্ব হয়ে উঠবেন। ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি গান্ধি পরিবারকে ব্যাপক শ্রদ্ধা করেন।

সাম্প্রতিক তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন। যেটা মূলত কংগ্রেসের জন্য এক বিপর্যয়। তিনি ওই নির্বাচনের মাঝামাঝি সময়ে এসে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। তার একমাত্র ছেলের দুর্ঘটনা ও তার সেবাযত্নের কারণ দেখিয়ে তিনি নিজেকে সরিয়ে নেন।

আর এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে বোঝা যাচ্ছে, প্রকৃত ঘটনা হলো তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় না হওয়ার কারণে উত্তরপ্রদেশের নির্বাচেন তার সীমাবদ্ধতাগুলো দেখা যায়। তার বদমেজাজি মনোভাব ও অতি আত্মবিশ্বাস হলো আরেকটা বড় সমস্যা। এ বিষয়ে রাহুলকেও কৃতিত্ব দেয়া উচিত; কেননা তিনি তাকে সকল উপায়ে চলে যাওয়ার রাস্তাটি তৈরি করে দিয়েছেন।

তাদের দুই ভাইবোনের সম্পর্ক ও মা সোনিয়া গান্ধিকে নিয়ে দিল্লির অলিতে গলিতে আলোচনা হচ্ছে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধি অনেক দিন থেকে উত্তরপ্রদেশের রাইবরেলি জেলায় মায়ের আসন থেকে নির্বাচন করতে মাকে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন। যদি তিনি ২০১৯ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন তাহলে হয়তো এখান থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।

প্রিয়াঙ্কা যে এই আসন থেকে নির্বাচন করবেন সেটা তার পরিবারের এক ঘনিষ্ঠজনের মাধ্যমে জানা যায়। তবে প্রিয়াঙ্কা গান্ধি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন; তাহলে ৪০ বছর বয়সে এসে সেটি হবে তার নতুন রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু। সুতরাং ভদ্রকে নিশানা করে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের আক্রমণের শিকারও হতে পারেন তিনি।