টিডিএন বাংলা ডেস্ক : আমি পুলওয়ামার এই জঙ্গি হানার ঘটনার কথা শোনার পর থেকেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছি। নিন্দার কোনও ভাষা নেই। এভাবেই ট্যুইটারে জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার অবন্তীপুরাতে সিআরপিএফ জওয়ানদের কনভয়ে জঙ্গিহানায় মৃত্যু হল ৪০ জন সেনার। আহত হলেন আরও বহু সেনা। দেশের সব মহল থেকেই তীব্র নিন্দা করা হয়েছে এই জঙ্গি হানার। খেলোয়াড়রাও তীব্র ভাষায় এই জঙ্গি হামলার নিন্দা করেছেন।

বিরাট ট্যুইটে আরো বলেন, যে সকল সেনা শহিদ হলেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। আহত জওয়ানদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও জানিয়ে দিয়েছিলেন, জওয়ানদের এই ‘বলিদান’ বৃথা যাবে না। তারপরই এই টুইট করেন বিরাট।

শ্রীনগরের সেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে আহতদের। অবন্তীপুরায় এই হামলার দায় স্বীকার করেছে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। এই হামলার তীব্র নিন্দা করেন প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতারাই। জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে সব বিরোধ মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রেখে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী মোদীর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।

এর আগে ২০১৬ সালে সেপ্টেম্বর মাসে উরির সেনা ছাউনিতে আক্রমণ করা হয়েছিল। সেই সময় শহিদ হন ১৯ জন সেনা। আজকের হামলায় সেনাদের মৃত্যুর সংখ্যা সেই হামলাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে।

যে গাড়ি বিস্ফোরণের ফলে অন্তত এতজন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যু হল, সেই গাড়িটি চালাচ্ছিল জইশ-ই-মহম্মদের জঙ্গি আদিল আহমেদ দার। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই কথা জানানো হয়। কাকাপোরার বাসিন্দা আদিল আহমেদ দার গত বছরই এই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে নিজের নাম লেখায়। তার অন্য দুটি নাম হল ‘ আদিল আহমেদ গাড়ি টকরানেওয়ালা’ এবং ‘ওয়াকস কম্যান্ডো অব গুন্দিবাগ’। প্রায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানকে নিয়ে যাচ্ছিল যে বাসটি সেই বাসটিতে ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক বোঝাই স্করপিও নিয়ে হানা দেয় আদিল আহমেদ দার। এই ভয়াবহ হানার পরেই তার ছবি এবং ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত হতে থাকে।

২০১৬ সালের উরিতে হানার পর সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পাল্টা প্রত্যাঘাত নিয়ে মোদী সরকার কম প্রচার করেনি। এবার সেই গর্বের ফানুস চুপসে গেল। সারা দেশ মোদীকে প্রত্যাঘাতে আবা কথা বলছে। মোদী কী করেন, সেই দিকে নজর থাকবে গোটা দেশের।

বিরাট কোহলি ছাড়াও এই হানার তীব্র নিন্দা করেছেন ভারতীয় দলের বহু প্রাক্তন ও বর্তমান ক্রিকেটার। নিন্দার ঝড় বয়ে গেছে নানা মহলে। বাদ যায়নি বিনোদন দুনিয়াও।