টিডিএন বাংলা ডেস্ক : পুলওয়ামায় ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ভারত স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তানকে একঘরে করার কথা বলেছে, ডব্লিউ টি ওর নিয়ম অনুযায়ী পাকিস্তান যে এম এফ এন বা মোস্ট ফেভারড নেশন এর মর্যাদা পায় তা কেড়ে নেবার ঘোষণাও দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেনাকে পূর্ণ স্বাধীনতাও দিয়েছেন প্রত্যাঘাতের। কিন্তু সার্বিকভাবে এই ঘটনা মোদি সরকারের ৫ বছরে কাশ্মীর নীতির ব্যর্থতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আরও একধাপ এগিয়ে তাদের দাবি, কাশ্মীর নিয়ে কোন নীতি ছিল না সরকারের। বরং এই সময় কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদি দলে যোগদানের ঘটনা বেড়েছে, চরমপন্থা বেড়েছে। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি সরকার প্রায় সাড়ে তিন বছর পিডিপির সঙ্গে জোট করে রাজ্যেও সরকারে ছিল বিজেপি। কেন্দ্রের বহু চর্চিত সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বা নোট বাতিল কিছুতেই যে সন্ত্রাসবাদ দুর্বল হয় নি পুলওয়ামার ঘটনা তারই প্রমাণ। অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষক কৃতি শাহ, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এর সময় ভারতীয় সেনার নর্দার্ন কমান্ডের অধিনায়ক লেঃ জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত ডি এস হুডা এবং ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্টের অজয় সাহানীর সঙ্গে কথা বলেছিল সংবাদ ওয়েবসাইট স্ক্রল ডট ইন। তাদের মতে এই হামলা মোদি সরকারের সার্বিক ব্যর্থতার প্রমাণ।

লেঃ জেনারেল হুডার মতে এই হামলা মোটেই আশ্চর্যের নয়। গত ৩-৪ বছরে কাশ্মীর সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ বেড়েছে, হামলা বেড়েছে, অস্ত্রবিরতী লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়েছে,নোটবন্দী ইত্যাদি সত্ত্বেও সন্ত্রাসবাদীদের কাছে অর্থ সরবরাহ বেড়েছে।কৃতি শাহের মতে যে সময়ে এই হামলা হয়েছে তা খুবই আশ্চর্যজনক। এই সময়েই কেন এই হামলা হলো।সাহানির মতে এটা সুসংবদ্ধ হামলা বাড়ার লক্ষণ।

অজয় সাহানির মতে মোদি সরকারের কাশ্মীর নীতি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই সরকার শুধু সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ এবং নির্বাচনী সুবিধার জন্য কাশ্মীরকে ব্যবহার করেছে। জনগণের জন্য এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কোন সুসংহত নীতিই ছিল না সরকারের।কৃতি শাহের দাবি কাশ্মীর নিয়ে সরকারের নীতিতে কোনো সামঞ্জস্য ছিল না। একতরফা দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাশ্মীর সমস্যাকে দেখা যাবে না। জেনারেল হুডার মতে পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের নীতিতে সামঞ্জস্য থাকা দরকার। বর্তমান নীতি সফল হচ্ছে কিনা দেখা দরকার।

সার্জিক্যাল স্ট্রাইক দিয়ে মোদি যে ভাবমূর্তি তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন তাতে কতদূর লাভ হয়েছে? সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সময়ে সেনার নর্দার্ন কমান্ডের জিওসি লেঃ জেনারেল হুডার মতে, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক কাহিনী বাড়িয়ে বলা হয়েছিল। আর এই বাড়িয়ে বলায় একদমই কোন লাভ হয়নি।

শাহের মতে রাজনৈতিক ইস্যু করে কি লাভ হল? অজয় সাহানির মতে আসলে কাশ্মীর অজয় সাহা নির্মাতা আসলে কাশ্মীর নিরাপত্তার প্রশ্নে এই সরকারের কোনো নীতিই নেই।বাজেটে বরাদ্দ আসলে কমছে। ২০১৮ সালে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রধান বি সি খান্ডুরি বলেছিলেন, আমাদের ৬৮ শতাংশ গোলাবারুদ পুরানো আমলের। সরকার সে বিষয়ে কিছু না করে তাকে সরিয়ে দিয়েছে। এটাই নীতিগত ব্যর্থতা বা আসলে নীতিরই অনুপস্থিতি।