টিডিএন বাংলা ডেস্ক : পুলওয়ামায় তখন জঙ্গি হানায় শহিদ হয়েছেন দেশের সেনারা। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের বারদরিয়ায় ভেসে যায় গোটা দেশ। কাশ্মীরের সেনার মৃত্যুর যন্ত্রণা এতটুকু স্পর্শ করল না বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারিকে। তিনি উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে এক অনুষ্ঠানে নেচে গেয়ে সেই সন্ধেটা উপভোগ করলেন। তাঁদের নাচের সেই মাদকীয় দৃশ্য ভাইরাল সোশ্যাল  মিডিয়ায়। কী বলবেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব?

কাশ্মীরের সেই ঘটনায় অনেক নেতা মন্ত্রীরাই তাঁদের কর্মসূচি বাতিল করেছেন। অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন ক্রিকেটাররাও। মনোজ সেই রাস্তায় যাননি। বুঝিয়ে দিয়েছেন দেশের সেনার মৃত্যুর চেয়ে তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ আমোদ-প্রমোদ।

নারকীয় হামলা, কাঁপল দেশ

এমন একটা নারকীয় হামলা, যা উরির পর আর দেখেনি ভারত। পুলওয়ামার হামলা গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। কাশ্মীরের বাতাসে হাড় হিম গোটা দেশের। একটা ছন্দবদ্ধ দেশ এক লহমায় নিস্তরঙ্গ। কিন্তু এই বিভৎসতা কি কোনোভাবে স্পর্শ করল না বিজেপি নেতাকে?

নাচের তালে মনোজ

স্তব্ধ দেশ, কিন্তু মনোজের অন্য প্ল্যান। তিনি গানের তালে নাচলেন, কোমর দোলালেন। মেতে উঠলেন এক উদ্দাম সন্ধ্যায়। খবর ছড়িয়ে পড়েতেই সারা দেশ নিন্দায় মুখর হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক নেতারা এক সুরে সমালোচনা করেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সরকার ও সেনার পাশে থাকার বার্তা দেন। সদ্য রাজনীতিতে আসা প্রিয়ঙ্কাও কর্মসূচি বাতিল করেন। গোটা দেশ তখন হতচকিত! দিল্লির বিজেপি প্রধান কিন্তু গাইলেন, নাচলেন এলাহাবাদের অনুষ্ঠানে। তাঁর চোখে মুখে যন্ত্রণার লেশমাত্র ধরা পড়ল না।

ভোটও চাইলেন

নাচ-গানও উৎসবের আবহের মধ্যেই তিনি নরেন্দ্র মোদীর জন্য ভোট চাইলেন এই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে। এরপর হয়ত তাঁর অপরাধ মাফ হতেই পারে!

মনোজ তিওয়ারি নিজে একজন ভোজপুরি অভিনেতা। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না, কারণ সেই একই দিনে কর্ণাটকে গিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করেছেন খোদ দলের সভাপতি অমিত শাহ।

বিরোধীদের নিশানায় ব্যস্ত শাহ

বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ সেই হামলার পরে কর্ণাটকে গিয়ে বিরোধীদের আক্রমণ করতে ব্যস্ত থাকলেন। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে তিনি বিরোধীদের একহাত নেন। বিরোধীদের মহাজোট হলে কে প্রধানমন্ত্রীর মুখ হবেন, এই নিয়েও সেদিন প্রশ্ন তোলেন শাহ।

রাম মন্দির নিয়ে ব্যস্ত অমিত

সেনা শহিদ হচ্ছেন, কিন্তু রামমন্দির নিয়ে ব্যস্ত থাকলেন অমিত শাহ। এই দিনই তাঁকে অযোধ্যার বিতর্কিত ভূখণ্ডে রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে সওয়াল করতে দেখা গেল।

প্রধানমন্ত্রী গেলেন ঝাঁসি

পুলওয়ামা হামলার পর বিজেপি ঘোষণা করেছিল, আগামী কয়েকদিন তারা সব দলীয় কর্মসূচি বাতিল করবে। অথচ পরের দিনই অর্থাৎ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঝাঁসিতে গিয়ে জনসভা করলেন। পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিলেন। সেনাকে বদলা নেওয়ার স্বাধীনতা দিলেন। সেটাই তো দস্তুর।

তবে এরই পাশাপাশি বিজেপি নেতার উৎসব পালনটা কিসের বার্তা বহন করল? কী বলবেন মোদী?