টিডিএন বাংলা ডেস্ক: গুজব সব সময় হাওয়ার বেগে ছড়ায়। সে কারণে বরাবরই অশান্তি ছড়ানোর অন্যতম হাতিয়ার হয়েছে গুজব। আগে গুজব ছড়াতেও খানিকটা সময় লাগতো। বর্তমানে সোশ্যাল সাইটের কল্যাণে ব্যক্তির অজ্ঞাতেই তাদের হাতের মুঠোয় গুজব। মোবাইল খুলতে যা দেখি অনেকের ধমনীতে রক্ত টগবগ করে ফুটতে শুরু করে। সে কারণেই আজকাল সংবাদ মাধ্যমের দায়িত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে। কেবল খবর পেলেই হবে না, তাকে চেক করতে হবে। হোয়াটসঅ্যাপে ঘোরা খবর গুলির বৈধতা বিচার করতে আজকাল বহু সংবাদমাধ্যমই টিম বানিয়েছে। তারা খবরের সত্যতা যাচাই করছে। এটা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক দিক। এমনই একটা খবরের সত্যতা যাচাই করল দ্য কুইন্ট।

ঈদের দিন বিহারের কিষাণগঞ্জে আদিবাসীদের সঙ্গে স্থানীয় মুসলিমদের সংঘর্ষ হয়। খবর ছড়ানো হয় যে মুসলিমরা জোর করে আদিবাসীদের জমি দখল করেছে। ফলে ক্ষেপে ওঠেন আদিবাসীরা। তারা মুসলিমদের লক্ষ্য করে তীর ছোড়ে। তাতে কয়েকজন মুসলিম আহত হন। ওপিইন্ডিয়া নামে গেরুয়া ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমও এমন খবর করে। ঈদের দিন নামাজের ঠিক আগে এই হিংসা হয় তা অন্য মাত্রা পায়।

ঈদের দিন ঠিক কী হয়েছিল, যাচাই করতে ঘটনাস্থলে হাজির হন দ্য কুইন্টের সাংবাদিক। তিনি কিষাণগঞ্জের পুলিশ সুপার আশিস কুমারের সঙ্গে দেখা করেন। পুলিশ সুপার জানান, মুসলিমরা আদিবাসীদের জায়গা দখল করতে যাননি। বরং উল্টোটা হয়েছিল। দুই মুসলিমভাইয়ের জমি দখলের চেষ্টা করেছিল চা বাগানে বসতরত আদিবাসীরা। ঈদের দিন এই আদিবাসীরা শ্রীরাম চন্দ্রের ছবি আঁকা পতাকা টানিয়ে দেয় ঈদগাহের মাঠে। ফলে ঘটনাটি অন্য মোড় নেয়। ওপি ইন্ডিয়ার মত কিছু সংবাদমাধ্যম প্রচার করেছিল মুসলিমরা আদিবাসীদের জমি দখল করতে আসায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে তারা তীর চালায়। তা যে সত্য নয়, সরেজমিনে তদন্ত করে ও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে তাই স্পষ্ট করে দেয় কুইন্ট। পুলিশ সুপার আশিস কুমার বলেন, প্রশাসনের তরফে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা সফল হয়নি। আদিবাসীদের বলা হয়েছিল যে এটি মুসলিমদের জমি। কিন্তু তারা তা মেনে নেয়নি। আদিবাসীদের এই ঠিকানা দার্জিলিং কিষাণগঞ্জ লাগোয়া। তারা অনেকেই চা বাগান এলাকায় ঝুপড়িতে থাকেন। ঈদের নামাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় চটে যান মুসলিমরা। শুরু হয় পাথর ছোড়াছুড়ি। তখন আদিবাসীরা তাদের অস্ত্র তীর ধনুক বের করে। কয়েক জন গুরুতর আহত হন। গাড়িতে ভাঙচুর চালায় কিছু মুসলিমও। পুলিশ সুপার বলেন, দু’পক্ষকেই আমরা বলি, আইনশৃঙ্খলা নিজের হাতে তুলে নিবেন না।(সূত্র: পুবের কলম)