টিডিএন বাংলা ডেস্ক: চোরাস্রোত চলছিল বেশ অনেকদিন ধরেই। বজরং দলের মত বেশ কয়েকটি কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন থেকে আসছিল হুমকিও। বড় ধরনের অশান্তির পরিবেশ তৈরি হচ্ছিল। তাই কোনও ধরণের অশান্তি এড়াতে ইতিবাচক পদক্ষেপ করলেন ঝাড়খন্ডের রাচি শহরের শান্তিপ্রিয় মুসলিমরা। সিদ্ধান্ত নিলেন, এবার থেকে প্রতি শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় তারা মসজিদ ছাড়া রাস্তার উপর আর নামাজ পড়বেন না।

মুসলিমদের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে ছিলেন শহরের বিশিষ্ট আলেম তথা একরা মসজিদের ইমাম মাওলানা উবায়দুল্লাহ। ইমাম উবায়দুল্লাহ বলেন, আমরা মুসল্লিদের কাছে আবেদন করেছিলাম রাস্তায় নামাজ না পড়ার জন্য। তারা আমাদের সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছেন। এতদিন জুম্মার নামাজের সময় দেখা যেত, মসজিদে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেকেই মসজিদ সংলগ্ন রাস্তার উপর কাতার তৈরি করে দাঁড়িয়ে যান। এখন ঠিক হয়েছে রাস্তার উপর আর নামাজ নয়। ইমাম আরও জানান, শহরের এই রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অনেক স্কুল ও হাসপাতাল রয়েছে। শুক্রবার নামাজের সময় রাস্তার উপরই অনেকে দাঁড়িয়ে যাওয়ায় স্কুলবাস, অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি গাড়িগুলির যাতায়াত সমস্যা হয়। নামাজের নামে অন্যের কাজে বাধা তৈরি করাকে ইসলাম অনুমোদন করে না। সেজন্যই এই পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। শহরের অন্যান্য মসজিদ কর্তৃপক্ষকেও আবেদন করা হবে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। তবে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন গুলির হুমকি নিয়ে ইমাম কোন মন্তব্য না করলেও, স্থানীয় এক মুসলিম ব্যবসায়ী জানান, অনেকদিন ধরেই রাস্তায় নামাজ নিয়ে উত্তেজনার চোরাস্রোত ছিলই। নামাযের সময় মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে তীর্যক মন্তব্য ছুড়ে দেওয়া হত আশেপাশে থেকে। কিছুদিন ধরেই স্থানীয় কিছু হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের থেকে হুমকিও শুনতে হচ্ছিল। অশান্তি এড়াতেই তাই রাস্তায় নামাজ পড়া থেকে আমরা পিছিয়ে এসেছি। এক ট্রাফিক আধিকারিক জানান,এটা একটা বড় পদক্ষেপ। রাস্তায় নামাজের কারণে তীব্র যানজট হত। মহাত্মা গান্ধী রোড সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা যানজটের কবলে পড়ত। ফলে যান চলাচল অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুরিয়ে দিতে হত।