টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ২০১৬ সালের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হঠাত করে নোটবন্দীর ঘোষণা করেছিলেন। সেদিনের কথা ভাবতে গেলে এখনও আৎকে ওঠেন সাধারণ মানুষ। নোট বাতিলের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার জন্য হাতে মাত্র ৫০ দিন সময় চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কথা দিয়েছিলেন সমস্ত কালো টাকা উদ্ধারের। কিন্তু কালো টাকা উদ্ধার তো দূরের কথা রিপোর্ট বলেছে আরও বেড়েছে। দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে সবাইকে। মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি এখনও দেশের অর্থনীতি। চাকরি হারিয়েছে অনেক মানুষ। এমনকি মৃত্যু বরণও করতে হয়েছে অনেককে। নোট বাতিলের দীর্ঘ ১৯ মাস পর আরবিআইয়ের রিপোর্ট পেশ করল, জানিয়ে দিল কালো টাকা উদ্ধার হয়নি! তাহলে লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষের মৃত্যু, হয়রানি কেন? নোট বাতিলের ফলে প্রায় তিনমাস ব্যাপী যে চরমতম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছিল তা আদৌ কতটা সফল এমনটাই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

আরবিআই এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগে যে পরিমাণ ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সিস্টেমে ছিল, নোটবাতিলের পর তাঁর ৯৯.৩ শতাংশ ফিরে এসেছে। নোটবাতিলের আগে সিস্টেমে ছিল ১৫.৪১ লক্ষ কোটি টাকা। নোট বাতিলের পর ব্যাংকগুলিতে জমা পড়েছে ১৫.৩১ কোটি টাকা।

তবে প্রশ্ন উঠছে, যদি কয়েক লক্ষ টাকার কালো টাকা সিস্টেমে থেকে থাকে তাহলে তা ধরা পড়ল না কেন? তবে কি ঘুরপথে সেই সব টাকা সাদা টাকায় রূপান্তরিত করে ফেলল অসাধু ব্যবসায়ীরা? প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

রিপোর্ট পেশের সঙ্গে সঙ্গেই সরকারের উপর আক্রমণের সুর চড়িয়েছেন কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে আনন্দ শ্রীবাস্তব, রোজা আব্রাহাম ও অমিত বসোলের তৈরি করা এক সমীক্ষায় রিপোর্টে বলা হয়েছে, নোট বাতিলের পর ভারতীয় শ্রম বাজারে এবং শ্রমের পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাঘাত হয়েছে – সাধারণভাবে বেকারত্ব ২০১১-এর পরপরই বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বোচ্চ শিক্ষিত ও তরুণরা বেকার হয়েছে এবং এই সময়কালের মধ্যে কাজের সুযোগ কমেছে।