টিডিএন বাংলা ডেস্ক: বরাবরই সম্প্রীতি আর সহিষ্ণুতার কথা বলে আমাদের ভারতবর্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে গোটা দেশে যখন বেড়ে চলেছে সাম্প্রদায়িক হিংসা হানাহানির ঘটনা। সেই পরিস্থিতিতে সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়লেন মহারাষ্ট্রের বন বিভাগের এক সরকারি আধিকারিক। তার গাড়ির মুসলিম চালক রোজা রাখতে পারছেন না। তার পরিবর্তে নিজেই রোজা রাখছেন ড্রাইভারের হয়ে। যদিও ইসলামী শরীয়ত অপরের ইবাদত করে দেওয়ার ব্যাপারটি মান্যতা দেয় না। তবুও এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় সহমর্মিতার চিত্রটি।

ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের বলধানা এলাকার। ডিউটি করার পর রোজা রাখা সম্ভব হচ্ছিল না বনবিভাগের আধিকারিক সঞ্জয় এর গাড়ির চালক জাফরের। সে কথা জানতে পেরে ড্রাইভার এর পরিবর্তে নিজেই রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নেন এই ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার। দীর্ঘদিন ধরে সঞ্জয়ের ড্রাইভার পদে চাকরি করছেন জাফর। গত ৬ মে যেদিন সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদ দেখা গিয়েছিল সেদিন কথায় কথায় সঞ্জয় জাফর কে জিজ্ঞেস করেন, জাফর রোজা রাখবে কিনা। জাফর জানায়, সে ডিউটিতে রয়েছে আর তার শরীরও রোজা রাখার মতো অবস্থায় নেই।

এই কথা শুনে অফিসার সঞ্জয় বাবু জানান, জাফর এর পরিবর্তে তিনি এই রোজা পালন করবেন। আর সেই কথা মত কাজও করলেন। চলতি রমজানে রুটিনও পাল্টে গেছে সঞ্জয়বাবুর জীবনের। তিনি জানাচ্ছেন এখন প্রতিদিন ভোর চারটের আগে উঠে পড়ি এবং কিছু খেয়ে নিই (সেহেরি)। তারপর সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত রোজা রেখে ইফতার করি।

তিনি নিজে রোজা প্রসঙ্গে বলেন, আমি মনে করি প্রত্যেক ধর্মই আমাদের ভালো কিছু শেখায়। আমাদের সবার উচিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়ানোর জন্য কিছু না কিছু করা। আমাদের উচিত মনুষত্বকে আগে দেখা, তারপর ধর্মকে। রোজা রেখে তিনি বেশ শারীরিক উপকারিতাও পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। আর আর নিজেকে বেশ তরতাজাও মনে হচ্ছে।