Riot victims collects donated cloth for their families at relief camp in Eidgah located at riot hit area at Mustafabad in New Delhi on Tuesday. EXPRESS PHOTO BY PRAVEEN KHANNA 03 03 2020.

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: বিজেপি নেতাদের নানা হুমকি সত্ত্বেও লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে যাননি শহিমবাগের মহিলারা। করোনা ভাইরাসের অজুহাত দেখিয়ে অনেকেই তাদেরকে তুলে দিতে চাইছেন। তথাকথিত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীরা শাহিনবাগের করোনা সংমণ নিয়ে তটস্থ। কিন্তু দিল্লি দাঙ্গায় ঘরবাড়ি, সম্পদ হারানো মানুন গুলোর কথা কেউ ভাবছে, যারা ত্রাণশিবিরে অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছে। ভাইরাস শাহিনবাগের কাউকে আক্রমণ করেনি। সেখানে স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলা হচ্ছে। কিন্তু তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের তির তাদের দিকেই।

দিল্লি দাঙ্গায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ অনেকেই। এ সবই ঢাকা পড়েছে করোনা নিয়ে আলোচনায়। অথচ ত্রাণশিবিরে যারা আছেন, তারা আরও বিপদগ্রস্ত, অসহায়। ভবিষ্যৎ তাদের কোথায় নিয়ে যাবে, কেউ জানে না। সরকারি সাহায্য এখনও পৌঁছায়নি। আসেনি পুনর্বাসনের টাকাও। কই তাদের জন্য তো কেউ গলা ফাটাচ্ছে না, প্রশ্ন সচেতন মহলের। এটা এই সমস্ত বুদ্ধিজীবীর ভণ্ডামি বলে তারা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।

ডাক্তার ও বিজ্ঞানীদের অলাভজনক সংগঠন প্রোগ্রেসিভ মেডিকোজ অ্যান্ড সায়েন্টিস্ট ফোরাম (পিএনএসএফ) – এর মতে, যারা রিলিফ ক্যাম্পে রয়েছেন, তারা পপ্রচণ্ড অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছেন। চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থা নেই। করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করার জন্য নেই কোন যন্ত্রপাতি। জেএনইউ – এর অধ্যাপক বিকাশ বাজপেয়ী, এইমসের হারজিং ভাটি সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানী ও ডাক্তার এই ফোরামের সঙ্গে রয়েছেন। তারা ত্রাণশিবির গুলি পরিদর্শন করে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন। তাতেই দাঙ্গাবিধবস্ত উত্তর-পূর্ব দিল্লির মুসলিমনের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। এর সঙ্গে গোদের উপর বিষফোড়ার মতো এসেছে করোনা। ফলে তাদের দিক থেকে মানুষের নজর ঘুরে গেছে।

দেশ জুড়ে যখন কোয়ারেন্টাইন আন্ত আইসোলেশন নিয়ে চর্চা হচ্ছে, তখন দাঙ্গায় সব হারানো মানুষ গুলো মুস্তাফাবাদের ঈদগাহে একসঙ্গে গালাগাদি করে দিন কাটাচ্ছেন। সেখানে ভাইরাস পরীক্ষা করার নুন্যতম ব্যবস্থাও নেই। মুস্তাফাবাদের ঈদগাহের ত্রাণশিবিরে ৫০০ জনের বেশি মানুষ রয়েছেন। পিএমএসফের প্রতিনিধিরা জানাচ্ছেন, ত্রাণশিবিরের মানুষরা এখন ট্রমার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নানা জায়গায় করোনা ভাইরাস পরীক্ষা হচ্ছে। কিন্তু তাদের কাছে কেউ যায়নি। আল হিন্দ হাসপাতাল এদের কাছে বড় আশ্রয়। সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৫০ জন দাঙ্গাপীড়িত। আর বয়েছে জিটিবি হাসপাতাল, যেখানে উচু মানের চিকিৎসা সম্ভন নয়। কেন্দ্র সরকার ও রাজ্য সরকার কেন ত্রাণশিবিরগুলিকে এভাবে অবহেলা করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডাক্তার ও বিজ্ঞানী ফোরামের সদস্যরা।

নাভিদ হামিদ নামের এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, শাহিনবাগে প্রতিবাদীরা করোনা নিয়ে ঝুঁকিতে আছেন বলে যারা চিৎকার করছেন, তারা দিল্লির পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে মুসলিমদের কথা বলছেন না। সেখানে করোনা ভাইরাস হাতে পারে না? প্রশাসন ও বুদ্ধিজীবীরা এ ব্যাপারে কিছু বলছেন না। ওরা আসলে দুমুখো সাপ। ( সৌজন্য- পুবের কলম)