টিডিএন বাংলা ডেস্ক: নতুন সংবিধান প্রকাশ করে ভারত কে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ বলে ঘোষণা করল আরএসএস ! ষোলো পাতার ছোট্ট একটি বই । এটিই নাকি ভারতের নতুন সংবিধান । শুধু তাই নয় , এই সংবিধান নাকি প্রকাশ করেছে আরএসএস । স্বভাবতই বইটি নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক । তবে সংঘের পক্ষ থেকে সোজা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে , এই বইটির সঙ্গে তাদের কোনও যোগাযোগ নেই।

প্রশ্ন হচ্ছে , সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এই বইটি তা হলে কারা লিখেছে ? কারাই বা ভাইরাল করছে ? ষোলো পাতার বইটির নাম কার ‘ নিউ কনস্টিটিউশন ফর ইন্ডিয়া । পাতা জুড়ে সংঘ প্রধান মোহন ভাগবতের ছবি। কিন্তু কি আছে বইটিতে ?

লেখা হয়েছে , নতুন সংবিধান অনুযায়ী ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা করা হল। এখন থেকে ইন্ডিয়া ’ নয় , হিন্দুস্থান ’ নামেই দেশের পরিচয় । হিন্দু ধর্মের বর্ণ প্রথার ভিত্তিতেই এখন থেকে সংসদ ও বিধানসভাগুলোতে প্রতিনিধি চয়ন করা হবে। এমনকী সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও এই বর্ণপ্রথাই ভিত্তি হিসেবে ধরা হবে । মেয়েদের কোনও ভোটাধিকার থাকবে না । কারণ , ঈশ্বর মেয়েদের সৃষ্টিই করেছেন সন্তান উৎপাদনের জন্য। হিন্দু ধর্ম অনুসারে মেয়েদের সব অধিকার সংরক্ষিত থাকবে।

এখানেই শেষ নয় , আরও বলা হয়েছে, এখন থেকে হিন্দুস্থানের রাষ্ট্রপতি , প্রধানমন্ত্রী , সব কেন্দ্রীয় মন্ত্রী , সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী , সাংসদ – বিধায়ক , মন্ত্রীরা ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের হবেন। বোঝাই যাচ্ছে , কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এমন একটি পুস্তিকা নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। স্বভাবতই নড়েচড়ে বসেছে সংঘ।

আরএসএস – এর অখিল ভারতীয় সহ প্রচারপ্রমুখ নরেন্দ্র কুমার এক টুইট বার্তায় বলেছেন , এই পুস্তিকার সঙ্গে সংঘের কোনও যোগ নেই। সংঘকে কালিমালিপ্ত করার জন্যই এ ধরনের বই বাজারে ছাড়া হচ্ছে। আসলে সংঘের নামে অপপ্রচারের নানা চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর কোনও একটি মহল এ ধরনের পুস্তিকা বের করে বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছে। নরেন্দ্র কুমার দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, মোহন ভাগবত এই বই সম্পর্কে কিছুই জানেন না।