টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ‘সাবির স‍্যার জিন্দাবাদ’ স্লোগান কে প্রযুক্তির মাধ্যমে বদলে দেওয়া হল ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগানে। এমনকি সেই স্লোগানের ফেক ভিডিও তৈরি করে স‍্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হল। ফেক নিউজ ছড়িয়ে মাদ্রাসার শিশুদের দেশবিরোধী করে দেখানোর অপচেষ্টা ও মুসলমদের বদনাম করার চেষ্টা করা হল। এমনই ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের মান্দসৌর জেলার খানপুরা এলাকার একটি মাদ্রাসা কাম ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে।

সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরি করতে ফেক ভিডিও তৈরি করে দেখানো হল
মাদ্রাসার খুদে পড়ুয়ারা পাকিস্তান পন্থী স্লোগান দিচ্ছে। পাকিস্তানের হয়ে গলা ফাটাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি দেখে তোলপাড় হয় দেশ। পরে জানা গেল সবটাই ফেক নিউজ। মাদ্রাসার খুদে পড়ুয়াদের এক আন্তরিক আন্দোলনকে নির্লজ্জভাবে পাকিস্তানপন্থী স্লোগান হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা হলো সোশ্যাল মিডিয়ায়। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরীর জন্য ও মুসলিমদের বদনাম করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটাই করা হয়েছে। যা নিয়ে ক্ষুদ্ধ মুসলিমরা।

আরও একটা ফেক নিউজ। ফের নিশানায় মুসলিমরা। কেন্দ্রে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ধরনের ফেক নিউজের রমরমা বাড়ে। জাতীয়তাবাদের নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেক নিউজ করে মুসলিমদের হেয় করার কুচেষ্টা শুরু হয়। ঠিক এবারও যেমনটা হল। প্রিয় প্রিন্সিপালের বরখাস্ত হওয়ার আশঙ্কা মেনে নিতে পারেনি খুদে পড়ুয়ারা। পছন্দের প্রিন্সিপালকে কাছছাড়া করতে চায়নি তারা।

‘ প্রিন্সিপাল স্যার আমরা আপনার সঙ্গে আছি’ এই আবদারে ঘটনাটি ঘটে মধ্যপ্রদেশের মান্দসৌর জেলার খানপুরা এলাকার একটি মাদ্রাসা কাম ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। শিশু মনের আন্তরিকতা নিয়ে নির্লজ্জের মত নোংরা খেলা খেললো ফেক নিউজের কারবারিরা। প্রিন্সিপালের প্রতি শিশুদের এই আবদারকে তারা ‘পাকিস্তানপন্থি’ স্লোগান হিসেবে দেখিয়ে ফেক ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে। পরে অবশ্য মিথ্যার পর্দা ফাঁস হয়। আর এই পর্দা ফাঁসের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মান্দসৌরের সার্কল পুলিশ সুপার নরেন্দ্র সোলাস্কি ও আকাশ চৌহান নামে স্থানীয় এক সাংবাদিক। তাঁরা গোটা ঘটনাটি গভীরভাবে অনুধাবন করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনেন। তাঁরা দেখেন মাদ্রাসা শিশুরা তাদের প্রিন্সিপালের নামে জয়ধ্বনি করে স্লোগান দেয় ‘সাবির সাহেব জিন্দাবাদ’ আর সেটাকেই কুচক্রীরা প্রযুক্তির কায়দায় পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান হিসেবে দেখিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেয়।


শিশুদের ‘সাবির সাহেব জিন্দাবাদ’ স্লোগান প্রযুক্তির কৌশলে বদলে গেল পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগানে। বিষয়টি নিয়ে পরে পুলিশ সুপার বলেন, আকাশ চৌহানের মত সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা সাহায্য করার জন্যই আমরা দ্রুত আসল ঘটনাটি বুঝতে সক্ষম হই। আমরা বুঝতে পারি, শিশুরা পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলেনি তারা তাদের প্রিন্সিপালের সমর্থনে বলেছিল, ‘সাবির সাহেব জিন্দাবাদ’। দূততার সঙ্গে সঠিক সময় আমরা পদক্ষেপ গ্ৰহণ করতে না পারলে হয়তো বড়োসড়ো আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঘটনা ঘটে যেতে পারত। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হতে পারতো।

পুলিশ জানিয়েছে খানপুরা এমনিতেই অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা। এখানে সাম্প্রদায়িক অশান্তি তৈরির উদ্দেশ্যে এভাবে ফেক নিউজ ছড়ানো হয়েছে।