টিডিএন বাংলা ডেস্ক: হরিদ্বার আর নিজামুদ্দিন- দুই জায়গায় দুই নিয়ম। লকডাউনের মধ্যে সমস্ত যানবাহন চলাচল বন্ধের পর ২৮ মার্চ হরিদ্বারে আটকে পড়া ১৮০০ গুজরাতি তীর্থযাত্রীকে সরাসরি আহমেদাবাদে তাদের ঘরে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ বিলাসবহুল বাসের ব্যবস্থা হয়েছিল। আর এটা ঘটে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানির বিশেষ নির্দেশে। এর ঠিক বিপরীতে, দিল্পি প্রশাসন লকডাউনের কারণে নিজামুদ্দিনে আটকে থাকা তবলিগ সদস্যদের বাইরে যাবার অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছিল। এমনকী তারা যাত্রার জন্য নিজস্ব যানবাহনের ব্যবস্থা করেছিল। তবুও দিল্লি সরকার অনুমতি দেয়নি। অথচ ১২০০ কিমি জার্নি করে হরিদ্বারের তীর্থযাত্রী ভর্তি বাস চলে এল আহমদাবাদে।পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার জন্য কোনও ব্যবস্থা নেই। খাবারের অভাবে প্রাণ হারানাের আশঙ্কা। বহুল প্রচারিত হিন্দি দৈনিক সংবাদপত্র দৈনিক ভাস্করের রিপাের্টে উঠে এসেছে এমনই এক ভয়ংকর যাত্রা ও বৈষম্যের ঘটনা।

দৈনিক ভাস্করের রিপাের্ট থেকে জানা যাচ্ছে , ২৮ মাঠ মাহমেদাবাদে বসবাসকারী মুকেশ কুমারের মােবাইলে একটি মেসেজ আসে। এটি তার এক বন্ধু পাঠিয়েছিল। সে লিখেছিল যে , ” আজ রাতেই উত্তরাখণ্ড ট্রান্সপাের্টের অনেকগুলি বাস আহমেদাবাদ পৌঁছে যাচ্ছে। এই বাসগুলি আগামীকাল সকালে উত্তরাখণ্ডে ফিরে আসবে। তুমিও নিজের বাড়িতে ফিরে আসতে পারাে এতে করে।’ মুকেশ ভেবেছিল যে , তার বন্ধু মেসেজ পাঠিয়ে রসিকতা করছে। 

যখন দেশজুড়ে যানচলাচল বন্ধ এবং সমত্র রাজ্যের সীমানা সিল করে দেওয়া হয়েছে , তখন উত্তরাখণ্ড রাজ্য পরিবহণের বাসগুলি হরিদ্বার থেকে ১২০০ কিলােমিটার দূরে আহমদাবাদে কীভাবে আসতে পারে? তবে তাকে বিস্মিত করে দিয়েই ২৯ মার্চ বাসগুলি আহমদাবাদে পৌঁছয়। 

এ ব্যাপারে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীর সচিব একটি সংবাদ সংস্থাকে বলেন , ‘ গুজরাটের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ১৮০০ মানুষ হরিদ্বারে আটকা পড়েছিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনসুখ ভাই নার্বিয়া , স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানির বিশেষ প্রচেষ্টায় এই লােকদের তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। মজার বিষয় হল , এই কাজটি এমন গোপনীয়তার সঙ্গে করা হয়েছিল যে, উত্তরাখণ্ডের পরিবহণ মন্ত্রীও খবর পাননি যে তার বিভাগের অনেকগুলি বাস লড়াউনের সময় বহু রাজ্যের সীমানা অতিক্রম করে ১২০০ কিমি পাড়ি দিয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে শ্রমিকরা আটকে পড়েছে , কই তাদের জন্য তাে কোনও বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করলেন না অনিত শাহ , প্রশ্নের ঝড় দেশজুড়ে।

 ২৪ মার্চ দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা হয়। বন্ধ হয় রেল , বাস সহ সমস্ত যান চলাচল। তবে এর বেশ কয়েকদিন আগে বড় বড় সমাবেশ বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে লকডাউনের আগে এই লােকদের গুজরাতে ফিরে যাওয়া উচিত ছিল। তবুও কেন এই লােকেরা ২৫ মার্চের আগে ফিরে আসেনি ? প্রধানমন্ত্রী মােদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহের রাজ্য থেকে আসা এই তীর্ণযাত্রীরা সরাসরি রাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ হস্তক্ষেপে ঘরে ফেরে। অথচ লক্ষ লক্ষ শ্রমিক রাস্তায় ভিড় জনালেও কেন্দ্রের বিজেপি সরকার তাদের জন্য কিছুই করেনি।

অন্যদিকে , নিজামুদ্দিনের মার্কাজে আটকে পড়া তবলিগীরা তাদের ঘরে ফেরত যাওয়ার অনুমতি পাওয়ার জন্য দিল্লি প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছিল। তবলীগ জামাতের মুখপাত্র মাওলানা মুহাম্মদ আশরাফ জানিয়েছেন , প্রধানমন্ত্রী ২২ মার্চ জনতা কারফিউ ঘােষণা করেছিলেন। সেদিন নিজামুদ্দিনে চলমান কর্মসূচি তৎক্ষণাত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে ২১ মার্চ সারাদেশে রেল পরিষেবা হঠাৎ বাতিল হওয়ার কারণে তবলীগের একটি দল মার্কাজে আটকে পড়ে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জনতা কারফিউ উঠলে তার পরের দিন ২৩ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত লাউনের ঘােষণা দেন। ফলে দিল্লির বাইরে বেরােনাে তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। 

তবলীগ কর্তৃপক্ষ তখন পরিবহণ পাসের আবেদন জানায়। বাসের ব্যবস্থা করতেও বলেনি, নিজেদেরই বাস। এমনকী ১৭টি গাড়ির চালকের নাম এবং তাদের লাইসেন্সের বিবরণ সহ একটি তালিকা জমা দেওয়া হয়েছিল প্রশাসনের। কিন্তু অনুমতি মেলেনি। এই দুটি ঘটনা থেকেই স্পষ্ট , দুই ক্ষেত্রে দুই রকম আইন চলছে ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক দেশে। (সৌজন্য- পুবের কলম)