টিডিএন বাংলা ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা প্রয়োজন এমন শিশুর সংখ্যা ১৭৫ মিলিয়নের বেশি। কিন্তু এরা প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার বাইরে। ইউনিসেফের সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে শিক্ষার এই স্তরে বিনিয়োগ ও অসাম্যের একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ভারতে এই মুহূর্তে প্রায় ২০ মিলিয়ন শিশু প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। যে কারণে উন্নতমানের শিক্ষা বহু শিশুর অধরা থেকে যাচ্ছে।

অনুন্নত দেশগুলিতে প্রতি পাঁচজন শিশুর একজন প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পায়। এ প্রসঙ্গে ইউনিসেফের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হেনরিয়েটা ফোরে জানিয়েছেন, প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা আসলে শিশু শিক্ষার ভিত্তি। শিক্ষার পরবর্তী সাফল্যের অনেকটাই এর ওপর নির্ভর করে। যে শিশুরা এই স্তরের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়, তাদের মধ্যেই স্কুলছুট ও অকৃতকার্য শিশুর সংখ্যা বেশি। ফলে এই শিশুদের পরবর্তীকালে সামাজিক ও আর্থিক কাজে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়। ভারতে ২০১৪ সালে ৩ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত ৭০ শতাংশ শিশু প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় ছিল।

যদিও এই স্তরের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বহু সময়। অন্য দিকে এই স্তরে শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়ালেও এখনও ২০ মিলিয়ন শিশু প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার বাইরে থাকছে। এই ব্যবস্থার বাইরে থাকা শিশুরা পরিসংখ্যানগত হিসেবে ৩৫ শতাংশ।ইউনিসেফের রিপোর্ট অনুযায়ী আমাদের দেশে অঙ্গনওআড়ি ও ব্যাক্তিগত উদ্যোগ এই দুটি প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার মডেল চালু আছে।এই দুই মডেলের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান আছে। এই মডেলগুলির সাফল্য নির্ভর করে তা কতটা শিশু শিক্ষার উপযোগী।

৩ থেকে ৮ বছর পর্যন্ত শিশুকে পরবর্তী ধাপের জন্য গড়ে তুলতে হবে। এবং সেভাবেই শিক্ষার বিষয়বস্তু ও পদ্ধতি নির্বাচন করতে হবে। ২০১৩ সালে জাতীয় প্রাক্ শিশু শিক্ষা ও নজরদারি নিয়ে একটি নীতি তৈরি হয়েছিল যার নির্দেশিকায় সব ধরনের প্রাক-প্রাথমিক শিখায় শিশুর বিকাশের উপযোগী পন্থাগুলিকে চিহ্নিত করা হয়। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশে প্রাক-প্রাথমিকে শিশুরা বেশিমাত্রায় অংশ নিচ্ছে সেখানে শিশুরা পড়া ও অঙ্ক কসায় পারদর্শিতা দেখাচ্ছে।

তবে প্রাক-প্রাথমিক শিশুদের অংশগ্রহণ এবং সাফল্য নির্ভর করে শিশুদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা, মায়ের শিক্ষা এবং ভৌগোলিক অবস্থার উপর। রিপোর্টে স্বীকার করা হয়েছে এই স্তরের শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে মূলত দারিদ্র্যের কারণে। বিশ্বের ৬৪ টি দেশে দরিদ্র শিশুরা প্রাক্-প্রাথমিক শিখায় উন্নত দেশগুলির তুলনায় সাত গুন পিছিয়ে আছে। বিশ্বের ৩৩ টি দেশে দুই – তৃতীয়াংশ প্রাক্-প্রাথমিক স্তরের শিশু দাঙ্গা, বিপর্যয় ইত্যাদির কারণে আরলি চাইল্ডহুল্ড এডুকেশন থেকে বঞ্চিত।

এই রিপোর্টে মায়ের শিক্ষার মান কিভাবে শিশুর শিক্ষার মানকে নির্ধারণ করে তা উল্লেখ করা হয়েছে।এরই সঙ্গে রিপোর্টে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সরকারের সার্বিক শিক্ষা বাজেট ও বিশেষ করে প্রাক-প্রাথমিক স্তরে খরচের বরাদ্দের উপর। বর্তমানে সরকার চাইছে আগামী অর্থনীতির উপযোগী কর্মী তৈরি করতে। তাই শিশুর প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব অগ্রাধিকার পাচ্ছে। সরকারের সেভাবেই নীতিগত অবস্থান নিতে হবে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।