টিডিএন বাংলা ডেস্ক: সিএএ আইনে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার ব্যাপারে একটা ধারা দেখান, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে এভাবেই চ্যালেঞ্জ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। হিমাচলে ক্ষমতায় আসার দুবছর পূর্তির অনুষ্ঠানে শিমলায় সভায় বক্তব্য রাখেন অমিত শাহ। সেখান থেকে অমিত শাহ রাহুল গান্ধীকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, আমি রাহুল ‘বাবা’ কে চ্যালেঞ্জ করছি, একটা ধারা দেখানো হোক, যেখানে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কারও কোনও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে না, এমনকি তিনি সংখ্যালঘু হলেও। সিএএ আইন নিয়ে কংগ্রেস ও তাদের সঙ্গীরা গুজব রটাচ্ছে যে, সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব, নয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে কেড়ে নেওয়া হবে বলে।

নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিক্ষোভ, প্রতিবাদের মধ্যেই, জাতীয় জনসংখ্যা পঞ্জী এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জী বা এনআরসি নিয়ে বাখ্যা দেন অমিত শাহ, বিরোধী দল এবং অন্যান্য আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, এই প্রকল্পগুলি মুসলিমদের টার্টেগ করতে ব্যবহার করা হতে পারে, কিন্তু এর ব্যাখা দেন অমিত শাহ।

আন্দোলনকারী পড়ুয়া এবং বিরোধী দল সহ অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই আইনটি মুসলিমদের প্রতি বিভাজনমূলক এবং সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী। বিক্ষোভকারীদের আশঙ্কা, নয়া নাগরিকত্ব আইনের সঙ্গে সঙ্গে এনপিআর ও এনআরসিকে মুসিলমদের টার্গেট করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। বিক্ষোভকারীদের আরও দাবি, নাগরিকত্ব সংশোধন আইনে এই প্রথমবার নাগরিকত্বের জন্য জাতপাতকে রাখা হয়েছে।

কিন্তু সরকারের দাবি, এই আইনের মাধ্যমে তিনটি অমুসলিম প্রতিবেশী দেশের ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার সংখ্যালঘু শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার পথ সহজ হবে, যাঁরা ২০১৫-এর আগে ভারতে এসেছেন।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রের নতুন সংশোধনী নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল গোটা দেশ। গত কয়েকদিন ধরে অগ্নিগর্ভ উত্তরপ্রদেশও। বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে লখনউ, কানপুর, অমেঠি, প্রয়াগরাজ, গোরখপুর, ফিরোজাবাদ সহ একাধিক জেলা। কিন্তু নয়া নাগরিকত্ব আইনের সঙ্গে এনপিআর ও এনআরসির সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি কেন্দ্রের।