টিডিএন বাংলা ডেস্ক: এক পরিবারকে নৃশংসভাবে খুনের অপরাধে ৩ জনকে ফাঁসির সাজা শোনাল শিলিগুড়ি মহকুমা আদালত। ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর শিলিগুড়ির শিবমন্দির এলাকায় বাড়ি তৈরি করছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী প্রদীপ বর্ধন৷ তার দেড় মাস আগে বাড়িতে কাঠের কাজ করছিল তিন অভিযুক্ত সহদেব, দীপু এবং চিরঞ্জিত৷ সেসময়ই তারা প্রদীপ বর্ধনের সম্পত্তি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়৷ সেইমতো ডাকাতির পরিকল্পনা করে তারা৷ এরপর ঘটনার দিন মালদহের তিন কাঠমিস্ত্রি প্রদীপবাবুর বাড়িতে এসে ফের কাজ করতে চায়৷ আগেকার মতো বাড়িতে থেকেই কাজ করার অনুমতি দেন প্রদীপবাবু৷ আর ওইদিনই পুরোপুরি পরিকল্পনা করেই খুন করা হয় প্রদীপবাবু, তাঁর স্ত্রী দীপ্তি এবং ছেলে প্রসেনজিৎকে৷ খুনের অভিযোগে ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয় শিলিগুড়ি মহকুমা আদালত৷ যদিও এই রায়ের বিরোধিতায় উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন আসামিদের আইনজীবী৷

পুলিশ সূত্রে খবর, ওই দিন রাতে বছর পঁয়ষট্টির প্রদীপবাবুকে নির্মীয়মাণ দোতলার একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে রঙের পাত্র মাথায় চাপিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়৷ তারপর নিচে নেমে দীপ্তিদেবী এবং প্রসেনজিৎকে বিছানার চাদর পেঁচিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয়৷ তবে এত কাণ্ড ঘটানোর পরও বাড়ি থেকে জিনিসপত্র নিতে পারেনি খুনিরা৷

তদন্তে নেমে শিলিগুড়ি পুলিশ বেশ কয়েকটি সূত্র হাতে পায়৷ পুলিশ কুকুরকে দিয়ে তল্লাশি চালানোর পর বোঝা যায়, ওইদিন হত্যাকাণ্ডের পর বাড়ি থেকে কিছুটা দূরের একটি নদীতে গিয়ে হাত,পা ধুয়ে নেয় খুনিরা৷ নদীতে ফেলে দেওয়া হয় খুনের সরঞ্জাম৷ এরপর তিনজন তিন দিকে পালিয়ে যায়৷ তবে ঘটনার দুদিনের মধ্যেই একজন ধরা পড়ে পুলিশের হাতে৷ তার সূত্র ধরেই বাকি দু’জন ধরা পড়ে৷ চার বছর ধরে চলছিল সেই মামলা৷

শনিবার, শিলিগুড়ি মহকুমার আদালতের বিচারক দেবপ্রসাদ নাথ তিনজনকে ফাঁসির সাজা শোনান৷ সরকারি আইনজীবী পীযূষ ঘোষ বলেন, নৃশংসতার বিচারে এবং অপরাধের গুরুত্বের ভিত্তিতে বিচারক মৃ্ত্যুদণ্ড দিয়েছেন৷ তবে অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী চন্দন ঘোষ জানিয়েছেন, মহকুমা আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টে আবেদন করা হবে৷ এতদিন পর রায়দানে কিছুটা স্বস্তিতে পরিবারের আত্মীয়রা৷