সারিফুল আলম, টিডিএন বাংলা ,নিউ দিল্লি : কট্টরপন্থী গোরক্ষা বাহিনীর হাতে খুন হওয়া পেহলু খানের হরিয়ানার মেওয়াতের বাসভবনে পরিবারের সাথে সাক্ষাত করলেন ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশনের প্রতিনিধিদল। সেই সাথে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাত করে প্রতিশ্রুতিমত দুগ্ধ গরু উপহার দিল।
৫০ বছরের পেহলু খান ১ এপ্রিল রাজস্থানের আলোয়ার থেকে পিকআপ ভ্যানে করে দুগ্ধ গরু নিয়ে হরিয়ানার মেওয়াটে তার বাড়িতে ফিরছিলেন। তখনই কট্টরপন্থী গোরক্ষা বাহিনীর দুষ্কৃতিরা তার গাড়ি থামিয়ে গরু বহন করার জন্য জয়পুরগর নগর নিগমের কাগজপত্র থাকা সত্তেও গরু পাচারকারী সন্দেহে পেহলুকে পেটাতে শুরু করে। লাঠি ও বেল্ট দিয়ে মারের আঘাতে ওখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে পেহলু।পেহলু দুই দিন পর হাসপাতালে মারা যান। তাঁর দুই পুত্র ও তার প্রতিবেশী আজমত খানও আহত হয়।
এদিন গোরক্ষা বাহিনীর হাতে আক্রান্ত আমজাদ প্রতিনিধি দলকে জানায়, পুলিশ এসে না পৌঁছালে সেদিন তাদের সবাইকে ডিজেল দিয়ে মেরে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
পেহলু খানের পারিবারিক সদস্য এসআইও ন্যাশনাল সেক্রেটারি তৌসিফ আহমেদের সঙ্গে আলোচনাই বলে, পুলিশ সেদিন হসপিটালে আমার ভাই ও অন্যান্যদের সাথে দেখা করার জন্য ১ লাখ টাকা চেয়েছিল, তারা দেখা করতে দেইনি আমাদের। বিস্ময়করভাবে, গরু চুরির অভিযোগে পেহলুর ন্যায়বিচার না দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে সে।
পেশায় দুগ্ধব্যবসায়ী মৃত পেহলু খানের ৮ সন্তান।দুধ বেচেই চলত এই পরিবার। সেইদিন গোরক্ষা বাহিনী ঘরের মালিকই ছিনিয়ে নেয়নি, ছিনিয়ে নিয়েছিল গরু এবং ৩৫০০০ টাকাও। এখন তাই না আছে মালিক না আছে এত বড় সংসার চালানোর জন্য দুগ্ধ গরু। এই অবস্থার কথা ভেবে এসআইও তাদের সংসার চালানোর জন্য দুগ্ধ গরু উপহার দিল এবং প্রতিশ্রুতি দেয় তাদের পাশে সবসময় থাকার জন্য।