টিডিএন বাংলা ডেস্ক: সমাজকর্মী নরেন্দ্র দাভোলকর হত্যা মামলায় কর্ণাটক পুলিশের কাছে শরদ কলাসকরের যে ১৪ পাতার জবানবন্দি রয়েছে, তাতে কলাসকর স্বীকার করেছেন যে, পর পর গুলি করে খুন করেছি নরেন্দ্র দাভোলকরকে ।

সর্বভারতীয় ইংরেজি নিউজ চ্যানেল এনডিটিভিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গৌরি লঙ্কেশ এবং গোবিন্দ পানসারেকে খুনের পিছনেও শরদ কালাসকরের হাত রয়েছে। ২০১৮ সালে শরদ কালাসকরকে গ্রেফতার করা হয়।

২০১৩ সালের অগাস্টে পুণেতে গুলি করে হত্যা করা হয় সমাজকর্মী নরেন্দ্র দাভোলকরকে। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই কায়দায় গুলি করে খুন করা হয় গোবিন্দ পানসারেকে। একই বছর অগাস্টে কোলাপুরে খুন হন এম এম কালবুর্গি।

মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার নাল্লাসোপারার একটি বেআইনি অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে গ্রেফতার করা হয় শরদ কালাসকরকে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মুম্বই পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্তের সঙ্গে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের যোগ রয়েছে। একই সংগঠনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক গৌরি লঙ্কেশকে খুনের অভিযোগ রয়েছে। তারপর কর্ণাটক পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় শরদ কালাসকরকে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন জানাচ্ছে, স্বীকারোক্তি দিতে গিয়ে শরদ কালাসকর জানিয়েছে, তার সঙ্গে কয়েকজন দক্ষিণপন্থী সংগঠনের সদস্য যোগাযোগ করে। তাদের মতাদর্শ নিয়ে একটি কোর্সও করে শরদ কালাসকর। সেই কোর্সে অন্তর্ভুক্ত ছিল অস্ত্র চালানো এবং বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শরদ কালাসকর জানিয়েছে বীরেন্দ্র তাওড়ে তাকে জানায়, একজন দুষ্টু লোককে খুন করতে হবে। এই বীরেন্দ্র তাওড়েকেই গোটা ঘটনার মাস্টারমাইন্ড বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। শরদ কালাসকরদের নিয়মিত মগজ ধোলাই করাতো কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কর্তা এই ব্যক্তি। সিবিআই তাওড়েকেও গ্রেফতার করেছে। এই ব্যক্তিই শরদ কালাসকরকে হত্যার সুপারি দিয়ে বলে দিয়েছিল, নরেন্দ্র দাভোলকরকে যেন সরাসরি মাথায় গুলি করা হয়। যাতে বাঁচার সম্ভাবনা না থাকে, বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে প্রকাশ।

শরদ কালাসকর পুলিশকে জানিয়েছে, বীরেন্দ্র তাওড়ের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিল সে। সমাজকর্মী দাভোলকর মর্নিং ওয়াকে বেরোতেই পিছন থেকে গুলি চালায় শরদ কালাসকর। স্বীকারোক্তিতে শরদ কালাসকর আরও জানিয়েছে, নিজের দেশি বন্দুক থেকে প্রথমে ৬৭ বছর বয়স্ক দাভোলকরের মাথার পিছন দিকে গুলি করে সে। দাভোলকর পড়ে গেলে, মৃত্যু নিশ্চিত করতে সামনে থেকে নরেন্দ্র দাভোলকরের ডান চোখের ঠিক উপরে আরেকটি গুলি চালায় শরদ কালাসকর। এরপর অবশ্য শরদ কালাসকরের সহযোগী শচিন আন্দুরেও দাভোলকরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

পুলিশকে শরদ কালাসকার জানিয়েছে, বীরেন্দ্র তাওড়ের মাধ্যমেই তার সঙ্গে পরিচয় হয় গৌরি লঙ্কেশ খুনে অভিযুক্ত অমোল কালের। গৌরি লঙ্কেশকে খুনের বিভিন্ন পরিকল্পনাতেও শরদ কালাসকর অংশ নিয়েছিল বলে জানতে পেরেছে কর্ণাটক পুলিশ। ২০১৬ সালের অগাস্টে মহারাষ্ট্রের বেলগাঁওতে একটি বৈঠকে উপস্থিত লোকেদের কাছে জানতে চাওয়া হয় দেশে হিন্দুত্ববাদের বিরোধিতাকারীদের নাম। সেখানেই প্রথম গৌরি লঙ্কেশের নাম শোনেন শরদ কালাসকর, বলে স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছে সে। সেই বৈঠকেই গৌরি লঙ্কেশকে খুনের চূড়ান্ত পরিকল্পনাও ছকা হয়েছিল।

এই মামলায় আগে বম্বে হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়েছিল রাজ্য সরকার। এমন কী ডেকে পাঠানো হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশকেও। গত বছর আদালত তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ফের অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং মন্তব্য করে তদন্ত নিয়ে রাজ্য সরকারের কোনও মাথাব্যথাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।