টিডিএন বাংলা ডেস্ক : বিহারের রাজনৈতিক সংকট কাটাতে সরাসরি আসরে নামলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও সহ সভাপতি রাহুল গান্ধী। গত মঙ্গলবার ও বুধবার দুজনেই ফোনে কথা বলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারের সঙ্গে। লালুপ্রসাদের পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, নিতীশের সঙ্গে কংগ্রেস নেতারা সে বিষয়ে কথা বলেন। কিন্তু সংকটের অবসান কীভাবে ঘটবে, বুধবারও সে ইঙ্গিত মেলেনি।
নিতীশ কুমার তাঁর উপমুখ্যমন্ত্রী লালু-পুত্র তেজস্বীকে পদত্যাগ করতে চার দিন সময় দিলেও গতকাল তেজস্বী জানিয়ে দেন, ইস্তফা তিনি দেবেন না। কারণ তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে মামলা সিবিআই দাখিল করেছে, তা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ এই চক্রান্তের হোতা। বিহার তো বটেই, দেশ থেকে বিজেপিকে উৎপাটিত করাই আমাদের ব্রত।’
তেজস্বী পদত্যাগ না করলে নিতীশ কি তাঁকে বরখাস্ত করবেন? প্রশ্নটি শুধু বিহারেই নয়, দিল্লিতেও উঠে গেছে। কারণ, ঘনিষ্ঠ মহলে নিতীশ বলেছেন, রাজনৈতিক জীবনে কখনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজনীতি করে গেছেন। উপমুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির মামলা উপেক্ষা করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। বিহার বিজেপিও তেজস্বীকে বরখাস্ত করার দাবি দিন দিন জোরালো করে তুলছে। বিহারের মহাজোট ভেঙে গেলে রাজনৈতিকভাবে বিজেপির লাভ।
কংগ্রেসের দিক থেকে মহাজোট রক্ষায় চেষ্টায় ত্রুটি নেই। দলীয় সূত্রের খবর, তেজস্বীর বদলে লালুপ্রসাদের অপর পুত্র তেজপ্রতাপকে উপমুখ্যমন্ত্রী করে পরিস্থিতির সামাল দেওয়ার একটা প্রস্তাব অনড় দুই পক্ষকেই দেওয়া হয়েছে। তেজপ্রতাপও বিহার মন্ত্রিসভার সদস্য। কিন্তু লালুপ্রসাদ ও তেজস্বী কেউই এই প্রস্তাবে এখনো রাজি হননি।
বিহারের মহাজোট ভাঙতে বিজেপি মরিয়া। রাজ্য বিজেপির নেতা সুশীল মোদি সরাসরিই জানিয়ে দিয়েছেন, লালুপ্রসাদের দল আরজেডি সরকার থেকে বেরিয়ে গেলে বিজেপি বাইরে থেকে নিতীশ সরকারকে সমর্থন দেবে। আরজেডি অবশ্য সরকার ছাড়া বা জোট ভাঙার কথা আদৌ ভাবছে না। কারণ, দুর্নীতির মামলার মোকাবিলা করতে গেলে রাজ্য সরকারকে তাদের পাশে দরকার।
বিহার বিধানসভায় লালুর দলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৮০। ২৪৩ আসনবিশিষ্ট বিধানসভায় নিতীশের সংযুক্ত জনতা দলের রয়েছে ৭১ আসন, কংগ্রেসের ২৭। বিজেপি ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেলেও তাদের প্রাপ্ত আসন মাত্র ৫৩।