নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, নয়া দিল্লি : সোমবার দিল্লির প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়াই একটি ‘স্টুডেন্টস ম্যানিফেস্টো’ প্রকাশ করে মুসলিমদের জন্য চাকরি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ শতাংশ এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের জন্য ৫ শতাংশ সংরক্ষনের দাবি জানিয়েছে। সর্বভারতীয় ইসলামী ছাত্র সংগঠন (এসআইও) লোকসভা নির্বাচনের আগে ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে লোকসভা নির্বাচনে তাদের ঘোষণাপত্রে দাবিগুলি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইস্তেহারটিতে পেশ করা সুপারিশ এবং দাবি তিনটি বিভাগে বিভক্ত করা হয়েছে; শিক্ষা, যুব ও মানবাধিকার বিষয়ক বিষয়।

সংগঠনটির ঘোষণাপত্রের শিক্ষা বিভাগে রাইট টু এডুকেশন আক্টের দুর্বল বাস্তবায়নের জন্য
কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলির সমালোচনা করেছে এবং দক্ষতা ও স্বচ্ছতা উন্নত করতে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করে।
ঘোষণাপত্রে মাওলানা আজাদ জাতীয় ফেলোশিপ এবং রাজিব গান্ধী জাতীয় ফেলোশিপের বৃত্তি বাড়ানোর দাবি করেছে।
সাচার কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সংরক্ষণের দাবি করে।
এছাড়ও দাবি করা হয়েছে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আরবি ও ইসলামী স্টাডিজ বিভাগ খোলার।
উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের ছাত্রদের আইনী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রোহিত আইন প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।
সংখ্যালঘু অধ্যাসিত জেলায় আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধ ক্যাম্পাসগুলি স্থাপন করার দাবিও জানানো হয়েছে।ইউপিএ সরকার পাঁচটি আলিগড়ের শাখা ঘোষণা করেছিল- তার মধ্যে তিনটি চলমান – মালাপুরাম, কিষানগঞ্জ এবং মুর্শিদাবাদ
এছাড়াও দাবি জানানো হয়েছে বৃত্তি স্কিম উন্নতি,ছাত্রদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদান,বিশেষ প্রয়োজনের সঙ্গে শিশুদের অতিরিক্ত মনোযোগ,আরটিই আইনের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন (২০০৯),আলিগড় ও জামিয়া মিল্লিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইনোরিটি স্টাটাস সুনিশ্চিতকরন।

এসআইও তার ইস্তেহারে ক্রমাগত বেকারত্ব দূর করার জন্য প্রোয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ইনক্লুসিভ এন্টারপ্রেনর স্কিম এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রোগ্রামগুলির জন্য সুপারিশ করে। সরকারি চাকুরীর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি দূরীকরণ এবং একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এবং স্বচ্ছ সিলেকশন প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন দাবি করে। রঙ্গনাথন মিশন কমিশন অনুযায়ী পাবলিক সার্ভিসেসে সংরক্ষন দাবি করেছে।

এসআইও মানবাধিকার বিষয়ক ইস্তেহারে একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার মোকাবেলা করার জন্য একটি ব্যাপক আইন প্রণয়ন করার দাবি করে।
যারা সন্ত্রাসবাদ মামলায় মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত সেই নির্দোষ যুবকদের জন্য পুনর্বাসনের পরিকল্পনা চালু করার আহ্বান জানিয়েছে। “আসামে এনআরসি ন্যায্য ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে করা উচিত”, এসআইও দাবি করে।