টিডিএন বাংলা ডেস্ক: আমাদের সমাজ এখনো পর্যন্ত জাতপাত, রঙ-বেরঙের গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ। ঝেড়ে ফেলতে পারেনি অনেক কুসংস্কারও। সমাজের মধ্যে কেউ দেখতে অসুন্দর হলে অথবা গায়ের যদি ফর্সা না হয় তবে তাকে অনেক গঞ্জনা সহ‍্য করতে হয়। একসময় গঞ্জনা সহ‍্যের সীমাও পেরিয়ে যায়। আর এই কারনেই হয়তো সে তখন জীবন যুদ্ধের কারে পরাজিত হয়ে যায়। যেমনটা হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরে। গায়ের রং কালো বলে দৈনন্দিন শ্বশুরবাড়ির লোকদের কাছে কটাক্ষ শুনতে হত পূর্ণিমা সামন্ত নামের এক গৃহবধূকে। আর সেই কারণে সে অভিমানে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

পরিবার সূত্রের খবর, বছর দেড়েক আগে মগরাহাটের জয়পুরের বাসিন্দা পূর্ণিমা সামন্তের সঙ্গে বিয়ে হয় বিষ্ণুপুরের গগন গোয়ালিয়ার বিলাস পাত্রের। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই অশান্তি শুরু হয় দম্পতির মধ্যে। অভিযোগ, গায়ের রংয়ের জন্য নিত্য শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কটাক্ষের শিকার হতেন পূর্ণিমাদেবী। এমনকী বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য তাঁকে চাপ দিতেন শাশুড়ি ও ননদ। অর্থাৎ ঘুরপথে পণ আদায়ের চেষ্টাও কম হয়নি৷ মেয়ের সংসারের কথা ভেবে নিজের ক্ষমতার বাইরে গিয়েও টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন পূর্ণিমার বাবা। নিজের সর্বস্ব বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা তুলে দেন মেয়ের হাতে।

পুলিশ সুত্রের খবর, পূর্ণিমাকে নিত্য দিনে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ তো দেওয়া হত বটেই,সেই সঙ্গে মারধরও করা হত। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, অপমানেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন ওই বধূ। ইতিমধ্যেই মৃতার স্বামী, শাশুড়ি ও ননদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

অভিযোগ, দিনের পর দিন বাড়তেই থাকে টাকার দাবি। চাহিদা মতো টাকা না দিতে পারায় বাড়তে থাকে অত্যাচারের মাত্রা। বাধ্য হয়ে ২৬ মে বিষয়টি জানিয়ে বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পূর্ণিমার বাপের বাড়ির সদস্যরা। শনিবার বিকেলে সমস্যা মেটাতে পূর্ণিমার শ্বশুরবাড়ি ও বাপের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে আলোচনার আয়োজন করে গ্রামবাসীরা। কিন্তু তাতে রাজি ছিলেন না পূর্ণিমা। মেয়ের কথায় তাই আলোচনা পিছিয়ে দিতে বাধ্য হন বধূর বাবা-মা।

এরপর রবিবার সকালে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় পূর্ণিমার ঝুলন্ত দেহ। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। মৃতার বাবার অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকেরাই খুনের পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে পূর্ণিমাকে। পুলিশ সূত্রে খবর, একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে।সন্দেহের আওতায় মৃতার শাশুড়ি, ননদ ও স্বামী৷ তাদের জেরা করেই প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তৎপর পুলিশ৷