টিডিএন বাংলা ডেস্ক: অযোধ্যা মামলার রায়ের পুনর্বিবেচনার জন‍্য সুপ্রিম কোর্টে ১৮ টি পিটিশন দায়ের হয়েছিল। সেই সমস্ত পিটিশনের শুনানির দিন ঠিক হয়েছিল বৃহস্পতিবার। এদিন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ অযোধ্যা সংক্রান্ত দায়ের হওয়া সমস্ত পিটিশন খারিজ করে দেয়। সুপ্রিম কোর্ট গত ৯ নভেম্বরের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অযোধ্যায় বিতর্কিত স্থানে রাম মন্দির নির্মাণের পথ প্রশস্ত হয়। এই রায়ের পর্যালোচনার আর্জিগুলি খারিজ করে দিল প্রধান বিচারপতি এস এ বোবডের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ। পুনর্বিবেচনার আর্জিগুলি বিবেচনা করার পর সেগুলি সারবত্তাহীন বলে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, রায় পুনর্বিবেচনার জন‍্য প্রধান বিচারপতি ছাড়াও এই বেঞ্চে ছিলেন ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি অশোক ভূষণ, বিচারপতিএস এ নাজিক এবং বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। যে পাঁচ বিচারপতি বেঞ্চ ঐতিহাসিক অযোধ্যা মামলার রায় দিয়েছিল, সেই বেঞ্চে ছিলেন না একমাত্র বিচারপতি খান্না। তত্কালীন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের জায়গায় বেঞ্চে আসেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের এই বেঞ্চের রায়ের ফলে গত ৯ নভেম্বরের সর্বসম্মত রায় রূপায়ণের পথ প্রশস্ত হল। ওই রায়ে বিতর্কতি ২.৭৭ একর জমি মন্দির নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হয়। একইসঙ্গে মসজিদ নির্মাণের জন্য অযোধ্যারই কোথাও পাঁচ একর জমির বন্দোবস্ত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

পিটিশনগুলি বিতরণের মাধ্যমে পুনর্বিবেচনার পিটিশনগুলির ইন-চেম্বার পর্যালোচনা শুরু হয় দুপুর ১.৪০ টায়। ৯ নভেম্বরের রায় নিয়ে মোট ১৮ টি পুনর্বিবেচনার পিটিশন দায়ের হয়েছিল। এর মধ্যে নয়টি পক্ষ আগের মামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল। বাকি পিটিশনগুলি তৃতীয় পক্ষগুলি দায়ের করেছিল। এগুলির মধ্যেই ছিল সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মুসলিম পক্ষগুলির আর্জি। গত বুধবার নির্মোহী আখড়া সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যে ট্রাস্ট গঠিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেখানে তাদের সামিল করা এবং তাদের ভূমিকা সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেয়ে পুণর্বিবেচনার আর্জি দায়ের করেছিল।

প্রথম পুনর্বিবেচনার আর্জি দায়ের হয়েছিল গত ২ ডিসেম্বর। উত্তরপ্রদেশ জমিয়তে উলেমা ই হিন্দের সভাপতি মৌলানা সৈয়দ আর্শাদ রশিদি ও মূল মামলাকারী এম সিদ্দিকের আইনি উত্তরসূরী।

উল্লেখ্য, গত ৬ ডিসেম্বর অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড সমর্থিত পাঁচ পিটিশন দায়ের করা হয়। ওই দিনই পিস পার্টি অফ ইন্ডিয়াও পুনর্বিবেচনার পিটিশন দায়ের করে। গত ৯ ডিসেম্বর অখিল ভারত হিন্দু মহাসভাও পিটিশন দায়ের করে। ওইদিন ৪০ জন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী যৌথভাবে একটি পিটিশন দায়ের করেন।