টিডিএন বাংলা ডেস্ক: কিছু দিন আগে ব‍্যাঙ্গালোরে বাঙালীদের হেনস্থার ঘটনা সামনে এসেছিল। এবার ফের বাঙালীদের হেনস্থার ঘটনা সামনে এলো। তবে এবার মহারাষ্ট্রের পুনেতে। বাংলাদেশী সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের তিন বাঙলীকে দিনভর হেনস্থা করল রাজ ঠাকরের দল মহারাষ্ট্র নবনির্বাণ সেনা (এমএনএস)-র লোকজন। নিজেদের পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও উদ্ধব ঠাকরে সরকারের পুলিশ তাঁদের থানায় নিয়ে গিয়ে সন্ধে পর্যন্ত আটকে রাখল। হয়রান করা হল, পশ্চিমবঙ্গে তাঁদের পরিবারের লোকদেরও। শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে পুণের ধঙ্কবাদী এলাকার বালাজী নগরে।

জানা গেছে, কর্মসূত্রে পুণেতে থাকেন হুগলির বাসিন্দা রোশন শেখ ও দিলশাদ মনসুরি এবং বাপি সর্দার। দিলশাদ একটি ফুডস্টল চালান। রোশন সোনা-রুপোর গয়না পালিশের কাজ করেন। আর বাপি ইলেকট্রিশিয়ান। শনিবার সকালে হঠাৎ করে তাদের বাসস্থানে বাংলাদেশী আছে অভিযোগ তুলে হানা দেয় ৫০ জন এমএনএস কর্মী। সঙ্গে পুলিশও ছিল। এর পর ওই তিনজনকে ঘিরে শুরু হয় জেরা। সমস্ত প্রমাণ দেখানোর পরেও শেষ হয়নি হয়রানি। পুলিশ তিন জনকে নিয়ে যায় সহকরনগর থানায়। সেখানে সন্ধে পর্যন্ত তাঁদের আটকে রাখা হয়।

হুগলির বাসিন্দা রোশন ১৯৯৮ সাল থেকে পুণেতে রয়েছেন। তিনি ওই থানায় এই হয়রানি নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু কোনও এফআইআর নেয়নি পুলিশ। রোশন তাঁর অভিযোগপত্রে জানিয়েছেন, সহকরনগর থানায় পুলিশ তাঁর মায়ের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেয়। হুগলিতে তাঁকে ফোনও করে। রোশনের মা ফোনে জানান, তাঁরা হুগলির বাসিন্দা। শেষমেশ পাণ্ডুয়ার পুলিশ ফোনে সহকরনগর থানাকে জানায়, রোশনের জন্ম ভারতে। তারপরেও থানায় সন্ধে ৬টা পর্যন্ত বসিয়ে রাখা হয় রোশনদের।

এমএনএসের লোকজন বলছেন, শীর্ষ নেতা রাজ ঠাকরেই আদেশ দিয়েছেন মহরাষ্ট্রে বেআইনি ভাবে বসবাসকারী পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি মুসলিমদের বার করে দিতে। পুণের এসিপি সুরজেরাও ববর বলেছেন, ‘‘ওই তিন জন ভারতেরই নাগরিক। আমরা তাঁদের ছেড়ে দিয়েছি। এটা ঠিক তিন জনের এক জন এমএনএসের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করেছেন। আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’’