টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ভারতের সংবিধান প্রণেতা ভিমরাও আম্বেদকরের পৌত্র প্রকাশ আম্বেদকর বলেছেন, আজমল কাসভ যেমন সন্ত্রাসী ছিল,সাধ্বী প্রজ্ঞা সেরকমই সন্ত্রাসী।অথচ বিজেপি তাকেই ভোপাল কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে লোকসভায় পাঠাতে চাইছে।প্রকাশ আম্বেদকর বঞ্ছিত বহুজন অঘাদি সংঘটনের প্রধান।তিনি বলেন সাধ্বীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।সে সঙ্গে তিনি আরএসএস’ কেও তিনি আতঙ্কবাদী সংঘটন
হিসাবে মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, শুক্রবার মুম্বাই হামলায় শহীদ এটিএস প্রধান হেমন্ত কারকারকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে পরে ক্ষমা চেয়ে মন্তব্য প্রত্যাহার করে নেন সাধ্বী। বিজেপিও সাধ্বীর মন্তব্যর সঙ্গে নিজেদের দূরত্ব রেখে চলে।সাধ্বীর প্রার্থী পদ বাতিল করার জন্য আবেদন জানায় মালেগাঁও বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবার।

শুক্রবার সাধ্বীর মন্তব্যের পর সন্ত্রাসী সংগঠন অভিনব ভারতের প্রসঙ্গ ফের সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে এসেছে।সাধ্বী প্রজ্ঞা , স্বামী অসীমানন্দ,কর্নেল পুরোহিত সহ মালেগাঁও বিস্ফোরণে অভিযুক্তরা এই সংগঠনের পক্ষ থেকে সমঝোতা এক্সপ্রেসে বোমা বিস্ফোরণ হয়, মক্কা মসজিদ ও আজমের দরগাতেও এরা বিস্ফোরণ ঘটানোর মতো দুঃসাহস দেখায়।এই সব বিস্ফোরণে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয় আর আহত ও পঙ্গু অবস্থায় রয়েছেন শতাধিক মানুষ।অভিযুক্তরা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিল যে তারা এসব হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে মুসলিমদের বেশি বেশি ক্ষতি করার জন্য।সেই জন্য বেছে নেওয়া হয় মসজিদ,দরগা,কবরস্থানের জমায়েত,ইফতারের সময় এবং মুসলিম যাত্রী ভর্তি ট্রেন।এই হত্যার পর তারা গর্ব অনুভবও করেছিল।

হেমন্ত কারকারে মহারাষ্ট্রের এটিএস প্রধান থাকাকালীন এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের পর্দা ফাঁস করেছেন।একের পর এক স্বামী ও সন্ন্যাসীরা ধরা পড়ে। এমনকি সেনাবাহিনীর গুদাম থেকে আরডিএক্স বিস্ফোরক এনে ব্যাবহার করা হয় সেটাও ফাঁস হয়ে যায়।অভিনব ভারতের সঙ্গে বিশাল সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের যোগ তৈরি হয়েছিল।তথ্য প্রমাণ সহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।সাধ্বীর নয় বছরের জেল হয় একটি মামলায়।সেই মামলায় নিজের শরীর খারাপ দেখিয়ে জামিন চাওয়া হলে আদালত জামিন মঞ্জুর করে।তাই এমন প্রশ্ন উঠেছে সাধ্বী জানিয়েছিল তিনি শক্তিহীন,ক্যানসারে আক্রান্ত,আয়ুর্বেদ চিকিৎসার জন্য জামিন না পেলে ক্ষতি হবে।সেই মামলায় অপরপক্ষ আদালতে সেইসব চিকিৎসকদের রিপোর্ট পুনরায় পরীক্ষার আবেদন জানিয়েছেন। যে রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে জামিন দে- ওয়া হয় সেটা সঠিক ছিলনা। কেননা সাধ্বীকে শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সক্ষম দেখাচ্ছে।তার জামিন বাতিল করার আবেদন ও জানানো হয়েছে।

উল্লেখ, নির্বাচন কমিশন সাধ্বীর বয়ান তলব করেছ কারকারে সম্পর্কে। এদিকে বিজেপি সাধ্বীকে ভোটে প্রার্থী করে কট্টর হিন্দুদের প্রতি ঝুঁকে পড়ার বার্তা দিতে চাইছে মধ্যপ্রদেশের ভোটারদের।কেননা এই রাজ্যে বিধানসভায় হেরেছে বিজেপি কয়েকমাস আগে।মোদির চেহারায় আর কাজ হচ্ছে না।সে কারণে সাধ্বীর ওপর ভরসা করতে চাইছে বিজেপি।