প্রতীক ছবি

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : এভারত দেখেছে কানা মাঝিদের কান্না। অম্বুলেন্সের অভাবে স্ত্রীর দেহ নিয়ে ছুটছে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার। প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলতেন, দেশে আচ্ছে দিন চলে এসেছে।

পেটে পেটের দায় বড় দায়, কিন্তু সেখানে সন্তান স্নেহেও কি হার মানে? চেন্নাই এর ঘটনা তুলে দিচ্ছে সেই প্রশ্নই। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সূত্রে খবর পেয়ে থাঞ্জাভুরে অভিযান চালিয়েছেন তামিলনাড়ুর লেবার ইন্সপেক্টর এর দল। সেখানে উদ্ধার করা হয়েছে ১০ বছরের একটি ছেলেকে। সাইক্লোন ‘গাজা’য় বাবাকে হারানোর পর বাচ্চাটিকে ক্রীতদাস হিসেবে বেঁচে দিয়েছিলেন তার মা। তাও মাত্র ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে!

২০১৮র ‘গাজা’ বিধ্বস্ত তামিলনাড়ুর এটাই বাস্তব। পুলিশ সূত্রে খবর, সাইক্লোনে ছেলেটির বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা মহালিঙ্গম নামের গ্রামের বিত্তশালী এক ব্যক্তির কাছে ছেলেকে বেচে দেন। ছেলেটিকে প্রতিদিন একবার করে খেতে দেওয়া হতো। রোজ ২০০রও বেশি ছাগল মাঠে ছরাতে নিয়ে যেতে হত তাকে। বিনিময়ে জুটতো ৮৫ টাকা।

উদ্ধার হওয়া ছেলেটি ইন্সপেক্টরদের জানিয়েছে, তাকে বিক্রি করে যে ছয় হাজার টাকা মিলেছিল তা দিয়ে তার বাবার শেষকৃত্য করা হয়েছিল। সাইক্লোন বিধ্বস্ত তামিলনাড়ুতে সে সময়ে একাধিক পরিবারে এমন শিশু বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। ঘটিবাটি বিক্রি করে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন সব হারানো মানুষগুলো। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা জানিয়েছে, আরও তিনটি বাচ্চাকে এভাবে বেঁচে দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু তাদের বাবা-মায়ের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মহালিঙ্গম এর কাছে ওই তিনজনকে বিক্রি করা হয়েছিল বলে খবর। মহালিঙ্গম এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হলেও সে এখন ফেরার। উদ্ধার হওয়া কিশোরকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। গত বছর থাঞ্জাভুরেই এমন একটি ঘটনা সামনে এসেছিল। ‘গাজা’য় সর্বস্ব হারানো একটি পরিবার তাদের ১২ বছরের সন্তানকে ধনী পরিবারের হাতে বিক্রি করে দিয়েছিল।