টিডিএন বাংলা ডেস্ক : কেরলের কোচি শহরের একটি মহিলাকে ২২দিন পর্যন্ত বেআইনীভাবে আটক করা হয়। কারণ তিনি একজন আইএসআই জঙ্গীকে বিয়ে করেছিলেন।
মহিলাটি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে, ওখানে ওরকম আরও মহিলাদের ও বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এখন সেই সেন্টারটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে যে, এই যোগকেন্দ্রে হিন্দুধর্মে ফিরিয়ে আনার “বাড়ি ফেরানোর” মতো অভিযান চালানো হচ্ছিল।

 


মহিলা পক্ষের আইনজীবী এ.রাজা সিমহান বলেন, “মহিলাটি হিন্দু এবং যার সাথে বিয়ে করেছিলেন তিনি একজন আই এসআই। দুজনের বিয়ে একটি মন্দিরে সমস্ত রীতি মেনেই হয়েছে। এই বিয়েতে কোনো ধার্মিক বা রাজনৈতিক চাপ ছিলনা। কিন্তু কিছু গ্রুপ এমন আছে যারা এই যোগ সেন্টারের মতোই কাজ করছে, যেখানে মহিলাদের প্রতারিত করা হচ্ছে।” রাজা আরও বলেন, “ওই মহিলা আমাকে বলেছিলেন যে যোগ সেন্টারে থাকা লোক অধিকাংশ সময় ইসলাম নিয়ে আর ধর্মের সম্পর্কে উল্টো পাল্টা কথা বলে। সব থেকে অবাক করার মতো কথা এটাই যে এইসব মহিলারা পাশের মন্দিরেও যেতে পারতনা। আমি এমন অন্যকেন্দ্র গুলোর ব্যাপারে তো জানিনা, কিন্তু ওখানে যা কিছু করা হয়েছে সেটা ওই মহিলাকে ভয় দেখানোর জন্যই ছিল।”

রাজ সিমহান বলেন, “পুলিশের কাছে মহিলা অভিযোগ করেন যে তাঁকে বেআইনিভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে, এবং হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করার জন্য জোর জবরদস্তি ও করা হয়। তিনি বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় তাকে অত্যাচার করার সাথে সাথে তাঁর পোশাক ছেঁড়ার চেষ্টা করা হয় এবং তাঁর সাথে দুর্ব্যবহারও করা হয়।”
এই মামলা এখন কেরল হাইকোর্টের হাতে।

কিন্তু এর আগে দুটি ভিন্ন ঘটনা সামনে আসে। প্রথমটি হল, কিছুদিন আগে একটি মুসলিম যুবককে বিয়ে করা একটি হিন্দু মেয়েকে এমনই এক যোগ সেন্টারে নিয়ে আসা হয়েছিল এবং তাঁকে পুনঃ ধর্ম পরিবর্তন করে হিন্দু বানানো হয়েছিল। এর অনেক আগে এক হিন্দু মহিলা আখিলা ওরফে হাদিয়া প্রথমে ইসলাম কবুল করে পরে একজন মুসলিম যুবককে বিয়ে করেছিলেন। হাদিয়ার এই মামলায় কেরল হাইকোর্ট এক আদেশে ওনাকে সত্যসরনী নামক এক ইসলাম অধ্যায়ন কেন্দ্রে যাওয়ার অনুমতি দেয়। কারণ হাদিয়া ইসলামের সমন্ধে আরও অধ্যায়ন করার অনুমতি চেয়েছিলেন।

কিন্তু হাদিয়ার পিতা অশোকনের আইনজ হাইকোর্টে অভিযোগ করেন যে সত্যসারণী এক ধর্ম পরিবর্তের কেন্দ্র। আর এমন পপুলেশন ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া (পিএফআই) চালায়। পিএফআই এর রাষ্ট্রীয় কার্যকারিণীর সদস্য পি.কোয়া এর জবাবে বলেন, “প্রথম কথা এটাই যে পিএফআই ইসলাম প্রচারের কাজ করেনা। এটা সত্যি যে, সত্যসারণী চালানোর কিছু মানুষ পিএফআই এর খুব কাছের। কিন্তু তাঁরা ধর্ম পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত নেই। যে কেউ এখানে আসতে পারে, এবং ইসলামের সমন্ধে মূল্যায়ন করতে পারেন।”