টিডিএন বাংলা ডেস্ক : অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি আরও একধাপ এগিয়ে প্রায়শই বলে থাকেন, তাদের জমানায় দেশে যে আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরেছে তা অতীতে কখনি হয়নি। কিন্তু সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন সব দাবির পিছনে যে সারবত্তা নেই, তা একের পর এক রিপোর্টে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।

কর্মসংস্থান বেড়েছে বলে সরকার বার বার দাবি করলেও এক পক্ষকাল আগেই দেশের একটি নামি সংস্থা রিপোর্ট জারি করে জানিয়ে দেয়, কর্মসংস্থান তো বাড়েইনি, উল্টে ২০১৮ সালে দেশে ১ কোটি ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান খোয়া গিয়েছে। আর সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে শুক্রবার সরকারেরই জারি করা রিপোর্ট বলছে, গত সাড়ে চার বছরে দেশে ঋণের বোঝা ৪৯ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছে। টাকার অঙ্কে সংখ্যাটা ৮২ লক্ষ কোটি।

জেটলিরই অর্থমন্ত্রক দেশের আর্থিক ঋণের ব্যাপারে শুক্রবারে স্টেটাস রিপোর্টের অষ্টম সংস্করণ জারি করেছে। এতে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত তথ্য সন্নিবিষ্ট করা হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশের মোট ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৮২ লক্ষ ৩ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। ২০১৪ সালের জুন মাস এই পরিমাণ ছিল ৫৪ লক্ষ ৯৪ হাজার ৭৬৩ কোটি। সাড়ে চার বছরে দেশে ঋণের বোঝা বেড়েছে প্রায় ৫১.৭ শতাংশ। টাকার অঙ্কে হল ৪৮ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৩ লক্ষ কোটি। আর আন্তর্জাতিক ঋন ৫৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬৮ লক্ষ কোটি।

বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণও এই সময়কালে ৪৭.৫ শতাংশ বেড়ে ৫২ লক্ষ কোটি হয়েছে। ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত যেখানে গোল্ড বন্ডের মাধ্যমে ঋণের পরিমাণ শূন্য ছিল, সেখানে বর্তমান সরকারের জমানায় তা ৯ হাজার ৮৯ কোটি টাকা হয়েছে। এই স্ট্যাটাস পেপারে অর্থমন্ত্রক ভারত সরকারের আর্থিক দিনের পরিস্থিতি বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছে। অর্থমন্ত্রক জানিয়েছে, ২০১০-১১ সাল থেকেই এই স্ট্যাটাস পেপার নিয়মিতভাবে জারি করে আসছে তারা।

সরকারের রাজস্ব ঘাটতি সহ অন্যান্য আর্থিক ক্ষেত্রগুলি পর্যালোচনা করে এই স্ট্যাটাস পেপার তৈরি করেছে অর্থমন্ত্রক। এতে বলা হয়েছে, সরকার মূলত নিজেদের রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে বাজার থেকে ঋণ নিচ্ছে। তবে একইসঙ্গে এই পেপারে বলা হয়েছে, ঋণের বোঝা বাড়লেও এই বোঝা সামলে নেওয়ার মতো সুযোগ সরকারের কাছে রয়েছে বলে তারা বেশ কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়েছেন। পরিস্থিতি ধারাবাহিকভাবে উন্নত হচ্ছে বলেও এই পেপারে মন্তব্য করা হয়েছে।

দেশের ঋণের বোঝা যখন বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে, তখন চলতি অর্থবর্ষে রাজস্ব খাত থেকেও নেতিবাচক খবর মিলছে। চলতি অর্থবর্ষে প্রথম আট মাসে গত বছর নভেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭.১৭ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী গোটা অর্থবর্ষের জন্য ঘাটতি লক্ষ্যমাত্রা ৬.২৪ কোটি টাকা ধার্য করেছিলেন। অর্থাৎ প্রথম আট মাস এই টার্গেটের ১১৪.৮ শতাংশ পেরিয়ে গিয়েছে ঘাটতির পরিমাণও। বাকি চারমাসে পরিমাণটা আরও বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এতে অর্থমন্ত্রীর আরও মাথা ব্যাথা বাড়বে। এর প্রতিফলন এই সরকারের শেষ বাজেটে পড়বেই বলে আর্থিক বিশেষজ্ঞদের অনুমান।