টিডিএন বাংলা ডেস্ক: লোকসভা ভোটের ফলাফলপ্রকাশ হয়েছে ২৩ শে মে। আর একদিন পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংখ্যালঘু, দলিত আদিবাসীদের উপর গেরুয়া বাহিনীর অত্যাচারের খবর সংবাদ শিরোনামে আসছে। নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা দিয়েছিলেন এবার নতুন ভারত দেখবে দেশের মানুষ।

সেই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের মনে আতঙ্ক দূর করার জন্য বলেন, তাদের আস্থা অর্জন করতে হবে। কিন্তু ঘোষণার একদিন পরেই ২৫ মে মধ্যপ্রদেশে গোরক্ষকরা আক্রমণ করে এক মুসলিম দম্পতির উপর। অটোরিকশায় সফর করা মুসলিম দম্পতি ও তার দুজন সঙ্গীকে রাস্তার উপর টেনে নিয়ে এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে বেদম প্রহার করে। সেই ভয়ঙ্কর অত্যাচারের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে গো-রক্ষকরা নিজেদের বাহাদুরী জাহির করার জন্য। আবার নির্মমভাবে আহতদের পুলিশ গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে গোমাংস পাচারের অভিযোগও দিয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনা ২৬ মে গুরুগ্রামের। মুসলিম যুবক মুহম্মাদ বরকত রমজান মাসে মসজিদে নামাজ পড়ার পর বাড়ি ফিরছিলেন। পথে গেরুয়া বাহিনী তার পথ আটকায়। তার মাথার টুপি খুলে ফেলতে বলে। তারপর ভারত মাতা কি জয়, জয় শ্রীরাম ইত্যাদি স্লোগান দিতে বাধ্য করে তাকে। প্রাণের ভয়ে গেরুয়া বাহিনীর কথা মেনে নিলেও নিগ্রহ করা হয় তাকে। বলা হয় মাথার টুপি পরার অনুমতি দেয়া হবে না গুরুগ্রাম, হরিয়ানায়। এমনকি শুকরের মাংস খাওয়ানোর হুমকিও দেয়া হয় তাকে। তৃতীয় ঘটনা বেগুসরাইয়ে।

এক মুসলিম যুবক জানান,পথের উপর তাকে থামায় রাজীব যাদব নামে এক ব্যক্তি। সে তার নাম জিজ্ঞেস করে। তারপর মুসলিম জানতে পেরে তাকে পাকিস্তান চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। হঠাৎ গুলি ছুড়ে দেয় তার দিকে। গুলিতে জখম হয়ে সেই মুসলিম যুবক কাশিম এখন কঠিন অবস্থায়। কাশিম এক ডিটারজেন্ট কম্পানির সেলসম্যান। মোটর সাইকেলে চেপে বিভিন্ন দোকানে বাজারে যেতে হয় তাকে। দ্বিতীয় গুলি পিস্তলে লোড করার ফাঁকে সে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয় রক্তাক্ত অবস্থায়। ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গিয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ২৩ মে গুজরাতে দলিত দম্পতিকে প্রহার করা হয়। প্রায় ২০০ জন উচ্চবর্ণের মানুষ চড়াও হয় দলিত পরিবারের উপর। তাদের অপরাধ গ্রামের একটি মন্দিরে বিয়ের সময় দলিতদের প্রার্থনা করা নিয়ে আপত্তি করেছিলেন উচ্চবর্ণের মানুষরা। সেই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেন ওই দলিত যুবক। তাদের বাড়িতে ইট, পাথর ছুড়ে এবং চড়াও হয়ে সবকিছু নষ্ট করে দিয়েছে। ২৭ মে ঝাড়খণ্ডের এক অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সাঁওতাল অধ্যাপক জিতরাই হাঁসদা আদিবাসীদের গোমাংস ভক্ষণের অধিকার নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। তিনি যুক্তি দেখিয়েছিলেন, ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী এলাকায় বিফ খাওয়ার রীতি রয়েছে আজীবনকাল। তিনি এই পরম্পরা দেখে আসছেন। কিন্তু ইদানিং সাঁওতালেদের বিফ খেতে দেওয়া হচ্ছে না।

ফেসবুকে তার এই মন্তব্য নিয়ে আপত্তি জানায় এবিভিপি। ভোট মিটে যাওয়ার পর গ্রেফতার করা হয় হাঁসদাকে। ২০১৭ সালে পোস্ট করা হলেও আদিবাসী ভোট হারানোর ভয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে চায়নি বিজেপি সরকার। ফল ঘোষণার পরেই গ্রেফতার করা হয়। পরের ঘটনা আরও মর্মান্তিক। মহারাষ্ট্রে ভিল মুসলিম সম্প্রদায়ের এক মহিলা চিকিৎসক সহকর্মীদের কটাক্ষ ও নিন্দামন্দ শুনতে শুনতে কঠিন মর্মবেদনায় আত্মহত্যা করে বসেছেন। এইসব ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে,কোথাও আবার গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এফআইআর দায়ের করে দায়িত্ব পালন করেছে। এই প্রবণতা বন্ধ করার জন্য বড় ধরণের কোনো পদক্ষেপ প্রশাসন বা সরকারের পক্ষ থেকে এখনও গৃহীত হয়নি।