টিডিএন বাংলা ডেস্ক : আসামে ‘গোপনে খুন’ চালিয়ে যাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের উপর চাপ দিয়েছিল কেন্দ্রের অটল বিহারী বাজপেয়ী নেতৃত্বাধীন সরকার। বুধবার এই কথা জানিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। রাজ্যে প্রফুল্ল কুমার মহন্তের সরকার থাকাকালীন এই ‘গোপন খুন’ চালু হয় বলে জানিয়েছেন গগৈ। সেই সময়ও কেন্দ্রে বিজেপি সরকারই ছিল। রাজ্যে আসাম আন্দোলন চলার সময়ে আলফা নেতাদের আত্মীয়দের নির্বিচারে হত্যা করার ঘটনা ঘটছিল।

১৯৯০-এর শেষ দিকে সরকারি মদতে মুখে কাপড় বাঁধা বন্দুকধারীরা এই বিচার বহির্ভূত হত্যার ঘটনাগুলি চালাতো। অভিযোগ রাজ্যে আলফার দৌরাত্ম্য বন্ধ করার জন্য এই পদ্ধতি নেওয়া হয়েছিল। কংগ্রেসের নেতা গগৈ জানিয়েছেন, কেন্দ্রে বিজেপি এবং রাজ্যে প্রফুল্ল মহন্তের অসম গণ পরিষদ মিলে এই ‘গোপন খুন’ চালিয়েছিল। ২০০১সালে মহন্তকে পরাজিত করে কংগ্রেস সরকার গঠন করলে, এই হত্যা চালিয়ে যাওয়ার জন্য কেন্দ্রের তরফে তাঁর সরকারের উপর চাপ ছিল বলেই দাবি করেছেন গগৈ। সেই সময়ে কেন্দ্রের স্বারষ্ট্রমন্ত্রী এল কে আদবানি গগৈকে জানিয়েছিলেন, আইপিএস অফিসার কেপিএস গিলকে রাজ্যের গভর্নর করে পাঠানো হচ্ছে। পাঞ্জাবে উগ্রপন্থা দমনে তাঁর ভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতেই আসামে গিলকে পাঠানোর জন্য আগ্রহী ছিল কেন্দ্র। গগৈ দাবি করেছেন, তাঁর সরকারের জোরদার বিরোধিতার কারণে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র আর গিলকে গভর্নর করে পাঠাতে পারেনি। কিন্তু গিলকে পাঠানোর কারণ ছিল এই ‘গোপন খুন’ চালিয়ে যাওয়া। গগৈয়ের এই দাবির কথা অস্বীকার করেছে অগপ এবং বিজেপি। দুই দলের পক্ষ থেকেই অভিযোগ করা হয়েছে, ‘গোপন খুন’ শুরু করেছিল কংগ্রেসের হিতেশ্বর সইকিয়ার সরকারই।

বিজেপি নেতা দিলীপ সইকিয়া দাবি করেছেন, এগুলি ভিত্তিহীন অভিযোগ কারণ তাঁর দল সবসময়ই দেশের সংহতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু গগৈ আরো অভিযোগ করে বলেছেন, আসামে বিদেশি নাগরিক চিহ্নিত করার জন্য ১৯৮০সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৬৭সালকে মাপকাঠির বছর হিসাবে স্থির করেন। কিন্তু প্রফুল্ল মহন্তের দল সেই সুপারিশ মেনে নেয়নি। পরে তারাই ১৯৮৫সালে ১৯৭১সালকে মাপকাঠির বছর হিসাবে মেনে নেন। গগৈ অভিযোগ করেছেন, ১৯৬৭সালের প্রস্তাব মেনে নিলে রাজ্যে ৮৫৫জন মানুষের জীবন যেত না। — পিটিআই/ইউএনআই