টিডিএন বাংলা ডেস্ক : তখনও ভোরের আলো ফেটেনি। ভারতীয় বায়ুসেনা এলওসি পেরিয়ে পাকিস্তানের মধ্যে ঢুকে জইশ ই মহম্মদের ঘাঁটি ধ্বংস করে। কীভাবে ভারতীয় বায়ুসেনা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ২ সম্পূর্ণ করল, এদিন সর্বদল বৈঠক ডেকে বিরোধীদের বিস্তারিত জানালেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। বিরোধীরা সরকারের এই পদক্ষেপ সমর্থন করেছে।

বৈঠকে হাজির হয়ে কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বিরোধীরা পাশে আছে। নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু ভবনে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে হাজির ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওমর আবদুল্লা ও আরো অনেকে। বৈঠকে সার্জিক্যাল ট্রাইক ২ সম্পর্কে বিরোধীদের জানান সুষমা।

এদিন গুলাম নবি আজাদ বলেন, আমরা বাহিনীর প্রশংসা করছি। আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপই সমর্থন করব। একটা উল্লেখযোগ্য বিষয, এতে কোনো নাগরিকের মৃত্যু হয়নি। জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে অপারেশন চালানো হয়েছে।

পুলওয়ামা হামলার পরেও একটি সর্বদল বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেখানেও বিরোধীরা জানিয়েছিল, সরকার যে পদক্ষেপ নেবে, তাতে তাদের সমর্থন আছে। এদিন রাহুল গান্ধী ট্যুইটারে লেখেন, আমি পাইলটদের স্যালুট জানাচ্ছি।

মঙ্গলবার ভোররাত সাড়ে তিনটে নাগাদ পাকিস্তানের অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোটে জইশ-ই-মহম্মদের জঙ্গিঘাঁটিতে  অভিযান চালানো হয়। অভিযান চালায় বায়ুসেনার মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান। লেজার গাইডেড বোমা দিয়ে মোট তিন জায়গায় প্রতি আক্রমণ হয়। তার মধ্যে এক জায়গায় ছিল পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের কন্ট্রোল রুম।

সব মিলিয়ে প্রায় ৩০০ জঙ্গিকে মারা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছে, জইশের পাঁচজন মাথা নিহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জইশের কার্যত কোমর ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে এই ধরনের হামলা বায়ুসেনা চালিয়েছিল ১৯৭১ সালে। তখনও একইভাবে নিয়ন্ত্রণ রেখা পার করে হামলা চালানো হয়েছিল। ৭১-এর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে কারগিল যুদ্ধ হয়। সেবারও বায়ুসেনা নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করেনি।