টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিই এখন মূল চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জয়শ্রীরাম বলিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটেই চলেছে। দেশের মধ্যে বিভিন্ন প্রান্তে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি কে কেন্দ্র করে একের পর এক হিংসার ঘটনা সামনে আসছে। গত ২৪ শে জুন ঝাড়খণ্ডে জয়শ্রীরাম বলিয়ে ১৮ ঘন্টা ধরে পিটিয়ে হত্যা করা হয় তাবরেজ আনসারী নামের ২৪ বছরের এক যুবককে। আর তা নিয়েই গোটা দেশ প্রতিবাদ জানিয়েছে। ঘটনায় ১১ জনকে গ্ৰেফতার ও দুই পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ডও করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এনিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে বিষয়েও তিনি ব‍্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও আবার সেই একই ঘটনা এবার মুম্বাইয়ের থানেতে এক মুসলিম ক‍্যাব চালককে জোর করে জয় শ্রীরাম বলানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু না বললে তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। ঘটনায় গ্ৰেফতার করা হয়েছে ৩ অভিযুক্তকে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত সোমবার থানের ডিভা এলাকায় ২৫ বছরের এক মুসলিম ক্যাব চালককে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিতে জোর করে তিনজন৷ তারপরই তাঁকে মারধর করা হয়৷ ঘটনায় গত মঙ্গলবারই তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ অভিযুক্তরা আগাসন গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে৷ অভিযুক্তদের আপাতত পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে৷

২৫ বছরের ফৈজল উসমান খান জানান, গত বছর ডিসেম্বর থেকে তিনি একটি ক্যাব সংস্থায় চালকের কাজ করছেন৷ গত সোমবার ভোর রাত তিনটে নাগাদ ডিভার এক হাসপাতাল থেকে যাত্রী নিয়ে মুম্বইয়ের দিকে আসছিলেন তিনি৷ তখনই তাঁর গাড়িটি খারাপ হয়৷ ফৈজল বলেন, “পার্কিং লাইট জ্বেলে গাড়িটা স্টার্ট করার চেষ্টা করছিলাম৷ ঠিক সেই সময়ই স্কুটারে চেপে পিছনে এসে দাঁড়ায় তিন যুবক৷ তারা মদ্যপ অবস্থায় ছিল৷ কাচে ধাক্কা মেরে বারবার জিজ্ঞেস করছিল, কেন রাস্তার মাঝে আমি গাড়ি দাঁড় করিয়েছি৷” এরপরই জোর করে গাড়ির চাবি কেড়ে নিয়ে চালককে টেনে বের করে আনে তারা বলে অভিযোগ৷ এক যাত্রী বিরক্ত হয়ে অভিযুক্তদের গালিগালাজ করতে থাকলেও তাতে কাজ হয়নি৷ অভিযুক্ত তিনজন চালকের ধর্ম তুলে কটূক্তি করতে থাকে৷ এমনকী তাঁকে জয় শ্রীরাম বলতে জোর করা হয়৷ বলা হয়, এই স্লোগান দিলে তবেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে৷ এরপর ওই যাত্রী পুলিশকে ফোন করলে চালকের ফোন নিয়ে চম্পট দেয় তিনজন৷

পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে ফৈজল জানান, তাঁর ফোন কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে মারধরও করা হয়৷ তিনি ‘আল্লা’ বলে চিৎকার করাতেই মার খেতে হয়৷ তবে বুদ্ধি করে স্কুটারের নম্বর লিখে রেখেছিলেন ফৈজল৷ সেই সূত্র ধরেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ থানে পুলিশ কমিশনার বিবেক ফানসালকর বলেন, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে৷ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হচ্ছে৷ তবে গোটা ঘটনায় এখনও আতঙ্কে রয়েছেন ফৈজল৷